২ টি আইপিএল খেতাব সহ কলকাতা নাইট রাইডার্স বা কেকেআর আইপিএলের ইতিহাসে সফলতম দল গুলির মধ্যে একটি। পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে দিয়ে দেখলে কলকাতা নাইট রাইডার্স, মুম্বাই এবং চেন্নাইয়ের ফ্রাঞ্চাইজিদের পর আইপিএলে সবথেকে সফলতম দল। প্রথম তিন বছর সাফল্য না পেলেও তারপর ঘুরে দাঁড়িয়েছিল কলকাতা। ২০১২ এবং ২০১৪ সালে আইপিএল জিতে ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করেছিল দলটি। আইপিএলের এতদিনের যাত্রাপথের ওপর ভিত্তি করে আমরা বেছে নিলাম আমাদের মতো করে সেরা কেকেআর একাদশ। অনেককে হয়তো জায়গা দেওয়া সম্ভব হল না, তবে পারফরম্যান্সের নিরিখে নিম্নলিখিত নামগুলিই হয়তো সবথেকে যোগ্য দলে থাকার।

কেকেআর একাদশ:--

প্রথম ওপেনার- গৌতম গম্ভীর (অধিনায়ক)

নাইট রাইডার্সের সাফল্যের পেছনে সবচাইতে বড় কারণ হলো গৌতম গম্ভীরের অধিনায়কত্ব। ২০১২ এবং ২০১৪ খেতাব জয়ের দুই মরশুমেই ব্যাট হাতে দুরন্ত ফর্মে ছিলেন কেকেআর অধিনায়ক। অধিনায়কত্বের সাথে ব্যাট হাতেও কেকেআর কে অনেক ম্যাচ জিতিয়েছেন তিনি। ফলে কেকেআরের সর্বকালের সেরা দলের বাছাইয়ে তিনি যে থাকবেনই তা বলাই বাহুল্য।   

দ্বিতীয় ওপেনার- সুনীল নারিন (অলরাউন্ডার)

গৌতম গম্ভীরের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফসল সুনীল নারিন। গম্ভীরের অধিনায়কত্বেই ২০১৭ তে প্রথমবার দলের হয়ে ওপেন করেন আর প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত। তিনি লম্বা সময় ধরে খেলার ব্যাটসম্যান নন। তাকে নামানোই হয় প্রথম থেকে চালিয়ে খেলার জন্য। অল্প সময় ক্রিজে থাকেন, কিন্তু যতক্ষণ থাকেন বিপক্ষের যাবতীয় স্ট্রাটেজিকে বলের সাথেই মাঠের বাইরে ফেলতে থাকেন। তার সাথে সাথে তার অফস্পিন বোলিং। অ্যাকশন বদলানোর পরও যথেষ্ট কার্যকর তার বোলিং। একসময় বিপক্ষের কাছে খেলাটিকে তিনি ২০ ওভারের বদলে ১৬ ওভারের করে দিতেন। বিপক্ষ ধরেই রাখতো সুনীলকে সামলে বাকি ওভারগুলোয় রান তুলতে হবে। তার ওভার থেকে যা পাওয়া যায় সেই নিয়েই সন্তুষ্ট থেকে বিপক্ষ চেষ্টা করতো উইকেট না হারানোর। যদিও বেশিরভাগ সময়ই তারা সেই লক্ষপুরণে ব্যর্থ হত। ঋদ্ধিমান সাহা, রোহিত শর্মা, বীরেন্দ্র সেওবাগের মতো কয়েকজনকে বাদ দিলে সেরা সময়ের নারিনকে সামলাতে হিমশিম খেয়েছে আইপিএলের যাবতীয় ব্যাটসম্যানরা। 

তিন নম্বর- সৌরভ গাঙ্গুলি (অলরাউন্ডার, সহ অধিনায়ক)

এখন যদিও কলকাতা নাইট রাইডার্সে বাঙালিরা সুযোগ পান না বললেই চলে, তবু কলকাতার দলে কোন বাঙালি থাকবেন না তা কখনো হয়। আর বাঙালিদের মধ্যে একজনই এই দলে সুযোগ পাওয়ার দাবি রাখেন, তিনি আর কেউ নন বাংলার গর্ব সৌরভ গাঙ্গুলি। অবশ্য শুধু বাঙালি বলেই যে তিনি সুযোগ পাচ্ছেন এমনটি নয়। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম দুই মরশুমে সফল না হলেও তৃতীয় মরশুমে প্রায় প্লে অফের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছিলেন কলকাতা কে। প্রথম এবং তৃতীয় আইপিএলে ব্যাট হাতে ভালোই ছন্দে ছিলেন সৌরভ। বেশ কিছু ম্যাচে কেকেআরকে একার হাতে জিতিয়েছেন। ব্যাটের পাশাপাশি প্রয়োজনে বল হাতেও উইকেট তুলে দলকে সাহায্য করেছেন। ভারত অধিনায়ক হিসাবে তার সাফল্যের কথা সর্বজনবিদিত। মাঠে পরামর্শ দরকার হলে তার দিকে তাকাতে নিশ্চয়ই দুবার ভাবতেন না গম্ভীর। 

চার, পাঁচ এবং ছয় নম্বরে- জ্যাক ক্যালিস (অলরাউন্ডার), রবিন উথাপ্পা (ব্যাটসম্যান), ইউসুফ পাঠান (অলরাউন্ডার)

তিনজনই কেকেআরকে একার হাতে অনেক ম্যাচ জিতিয়েছেন। ক্যালিস শুধু ব্যাটিং নয়, বোলিংয়েও কেকেআর কে ভরসা দিয়েছেন অনেক সময় তা সে ডেথ ওভারেই হোক অথবা নতুন বলে। ২০১২ ফাইনাল জেতায় তার অবদান ছিল অসীম। 

উথাপ্পাও কেকেআরকে অনেক ম্যাচ জিতিয়েছেন। ২০১৪ তে কেকেআরের ফাইনালে পৌঁছনোর অন্যতম কারণ ছিল রবিন উথাপ্পা। ৬০০-র ওপর রান করেছিলেন তিনি। দ্রুত প্রথম উইকেট হারালে তিন নম্বরেও নামতে পারেন ব্যাট হাতে। দরকারে গ্লাভস হাতে উইকেটের পিছনেও দাঁড়াতে পারেন।

ধারাবাহিক না হলেও ইউসুফ যেদিন খেলবেন সেদিন কারোর ক্ষমতা নেই তাকে থামানোর। হারের মুখ থেকে অনেক ম্যাচে জিতিয়েছেন কলকাতাকে। ঠান্ডা মাথায় বিপক্ষ বোলিংয়ের মেরুদন্ড ভেঙে দিতে পারেন তিনি। দরকার বল হাতে অফস্পিনের ভেলকিও দেখাতে পারবেন প্রয়োজনে। 

সাত, আট এবং নয় নম্বরে- দীনেশ কার্তিক (উইকেটরক্ষক), আন্দ্রে রাসেল (অলরাউন্ডার), সাকিব আল হাসান (অলরাউন্ডার)

কার্তিক ভালো উইকেটরক্ষকের সাথে সাথে ব্যাট হাতেও কার্যকরী, উইকেটরক্ষকের জায়গাটি তিনি ছাড়া আর কেউ ডিসার্ভ করেন না। প্রথম থেকে পঞ্চম সবরকমের গিয়ারে ব্যাট করতে পারেন।

সুনীল নারিন ছাড়া আর কোন ক্রিকেটারকে পাওয়া যাবে না যিনি কেকেআরকে একার দমে এত ম্যাচ জিতিয়েছেন। বিধ্বংসী ব্যাটিং করে অসম্ভব পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ জেতানোর পাশাপাশি বল হাতেও শুরুর বা শেষ ওভারে উইকেট তোলার ক্ষমতা রাখেন রাসেল। দলে অটোমেটিক চয়েস।

ব্যাট হাতে ক্যামিও খেলার পাশাপাশি, সাকিবের বাঁ হাতি স্পিন খুবই কার্যকরী। সুনীল নারিনের সাথে জুটি বেঁধে কেকেআরের স্পিন আক্রমনকে আলাদা মাত্রা দেবেন। 

দশ এবং এগারো নম্বর- পীযুষ চাওলা (স্পিনার), লক্ষ্মীপতি বালাজি (পেসার)

বোলার হিসাবে চতুর্থ সিজন থেকে কেকেআরকে ভরসা দিয়ে আসছেন এই লেগস্পিনার। কেকেআরের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট-শিকারি তিনি। যে কোনও ধরনের পিচে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন। 

কেকেআরের সবথেকে সফল স্বদেশি পেসার। নতুন বলে সুইংয়ের পাশাপাশি, ডেথ ওভারে স্লোয়ার দিতেও সিদ্ধহস্ত বালাজি। স্লো পিচেও তার বোলিং খুবই কার্যকর।