সারা দেশে মোদী মোদী রব। এই থেকেই প্রমাণ হয় দেশের পরের প্রধানমন্ত্রীও নরেন্দ্র মোদী। এই ভাষাতেই কল্যাণী থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল ব্রিগেডকে হুমকি দিয়ে কল্যাণীতে সভা শুরু করলেন অমিত শাহ। তাঁর মতে সারা দেশের নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ  কেন্দ্রগুলি এই বাংলাতেই। 

হাতে সময় কম। দাঁপিয়ে ব্যাট করছে রোদ। তাই শুরু থেকেই টি-টোয়েন্টি খেললেন অমিত শাহ বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রে প্রচারমঞ্চ থেকেষ এদিন  প্রথম থেকে টিঋ কথায় কথায় এল কাজের ফিরিস্তি। ঠিক ঠিক কী কারণে মোদী সরকারকে ভোট দেবে মানুষ? তাঁর তালিকা করলেন বিজেপি হাই কমাণ্ড সভাস্থল থেকে। তাঁর দাবি,  ৭ কোটি লোকের বাড়িতে গ্যাস, ৮ কোটি বাড়িতে বিদ্যুৎ , দুই কোটি নতুন শৌচালয়, আড়াই কোটি নতুন বাড়ি এবং সর্বোপরি আয়ুস্মান ভারত যোজনাই বিজেপিকে আবার মসনদে বসাবে। 

 
বিরোধীদের বিঁধতে এদিনও তাঁর অস্ত্র ছিল চিট ফান্ড। রীতিমতো গব্বর সিং এর ধাঁচে তার হুমকি "ক্ষমতায় এলে ষড়যন্ত্রীদের চুন চুনকে বেছে নেব"। একই সঙ্গে তাঁর ঢাল হল মমতা জমানায় বেড়ে চলা সিন্ডিকেটের রমরমা। অমিতের প্রতিশ্রুতি সিন্ডিকেট ট্যাক্স নেওয়ার এই এই পথ আমরা বন্ধ করব।

অমিত শাহ-র মতে, দেশকে সুরক্ষা দিয়েছেন মোদী। পুলওয়ামা কাণ্ডের পরে সারা দেশ তাকিয়ে ছিল, কী হবে জানতে চেয়েছিল। পাকিস্তানক ট্যাঙ্ক লাগিয়েছিল স্থলে। ৫৬ ইঞ্চি ছাতির অঙ্গুলিহেলনে নরেন্দ্র মোদীর কথায় বায়ুসেনা  বালাকোট ধ্বংস করেছে। অমিতের ব্যাঙ্গ,"মমতা দিদি তাতে দুঃখ পেয়েছেন"। 

শুধু মমতা নয়, কংগ্রেসকেও এক হাত নিতে ছাড়লেন না বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। তাঁর কটাক্ষে এল রাহুল গাঁধী, শ্যাম পিত্রোদার নাম। "রাহুল গাঁধীর গুরু শ্যাম পিত্রোদাও আলোচনার কথা বলেছে। আমরা গুলির জবাব দিই গোলায়," রণং দেহী অমিত বলে চললেন।

এর আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বন্ধু বলে আক্রমণ করেছিল বিজেপি । আজও বজায় থাকল সেই লাইন। অমিত শাহ-র মতে ওমর আবদুল্লাহ আর মমতাকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে। তারপরই ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন এক দেশে দুই প্রধানমন্ত্রীর গল্প। 
 
এর পরেই ক্লাইম্যাক্স। রীতিমতো স্টেপ আউট করলেন অমিত। তার মতে বিজেপি  যদি ক্ষমতায় না-ও আসে, তবু কাশ্মীরকে আলাদা করা যাবে না। কারণ  ভারত মায়ের মুকুটমণি কাশ্মীর।

"আমাদের ২৩ সিট দিন, আমরা ৩৭০ তুলে দেব," নেতাজীকে নকল করে স্লোগান তুললেন সভা থেকেই। আগামী ৬ মে উত্তর চব্বিশ পরগণার বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রে ভোট। অমিতের সভায় বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্র থেকে বা়ড়তি অক্সিজেনও পেল বিজেপি। কিন্তু ভোটের প্রচারে সেনার সক্রিয়তাকে কী ভাবে দলের গরিমাবৃদ্ধিতে কাজে লাগানো যায়, কী ভাবে সংবিধান বদল হবে রাতারাতি কারও অঙ্গুলিহেলনে, প্রশ্ন রয়ে গেল।