Pratikur Rahaman CPM: বিতর্কের সূত্রপাত সোমবার সকালে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্ক্রিনশট আচমকা ভাইরাল। আরও ভালো করে বলতে গেলে, তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি চিঠির ছবি পোস্ট করেন।
Pratikur Rahaman CPM: সিপিএম থেকে মন উঠে গেছে প্রতিকুরের (pratikur rahaman cpm)? নাকি অন্য কোনও সমীকরণ? নানারকম আকার ইঙ্গিতের দোলাচলে এখন লাল ঝাণ্ডার কর্মীরা। ঠিক কী হচ্ছে? কেন হচ্ছে? আর কীভাবে যে এই বেসামাল অবস্থা সামাল দেওয়া হবে, তার কিছুই অনেকে বুঝে উঠতে পারছেন না। বিধানসভা ভোটের আগে কার্যত, বেকায়দায় রাজ্য সিপিএম (cpim west bengal)।
তরুণ নেতার পদত্যাগ
বিতর্কের সূত্রপাত সোমবার সকালে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্ক্রিনশট আচমকা ভাইরাল। আরও ভালো করে বলতে গেলে, তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি চিঠির ছবি পোস্ট করেন। সেই থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। যদিও কুণাল ঘোষ বলেন, সেই চিঠির সত্যতা তিনি যাচাই করেননি। তবে প্রতিকুর রহমানের নামে ছড়িয়ে পড়া সেই চিঠিতে ঠিক কী লেখা রয়েছে?
সেই চিঠিতে লেখা আছে, "সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির জেলা এবং রাজ্য নেতৃত্বের বেশ কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছি না। এক গভীর মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। এই অবস্থায় আমি পার্টির জেলা এবং রাজ্য কমিটির দায়িত্ব ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
চিঠিটি লিখছেন সিপিএম রাজ্য কমিটির সদস্য প্রতিকুর রহমান। তাঁর আরও একটি পরিচয় আছে। সিপিএম-এর ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর প্রাক্তন সভাপতি ছিলেন তিনি। তারপরেই তাঁকে রাজ্য কমিটিতে নিয়ে আসে সিপিএম। কিন্তু অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, প্রতিকুরের লেখা চিঠি কুণাল ঘোষ পেলেন কীভাবে? তাহলে কি সর্ষের মধ্যেই ভূত?
আচ্ছা এ তো গেল একটা দিক। যদিও এই প্রসঙ্গে প্রতিকুর পরিষ্কার জানিয়েছেন, যা বলার পার্টিকে বলবেন। মিডিয়াকে নয়। কিন্তু এই অভিমানের সূত্রপাত কি হয়েছিল সেলিম-হুমায়ুন বৈঠকের পর থেকেই? একটু ফিরে দেখা যাক।
তাহলে কি তিনি ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছিলেন দলের অন্দরে?
নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে কয়েকদিন আগেই বৈঠক করেন সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। সেই বৈঠকের পর, সিপিএম-এর অন্দরে নানারকম কথা উঠতে শুরু করে। পার্টি সদস্য, নেতৃত্ব, কর্মী এবং অনেক সমর্থকও বিষয়টিকে মেনে নিতে পারছিলেন না।
সেই সময়েই, সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য শতরূপ ঘোষ দলের রাজ্য সম্পাদককে ডিফেন্ড করে সোশ্যাল মিডিয়াতে লেখেন, “যদি হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক হয়ে থাকে বেশ হয়েছে, দরকার হলে আবার হবে। সমস্ত নীতি-নৈতিকতার ঠিকে কি আমরা নিয়ে বসে আছি।"
এরপর শতরূপের সেই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিকুর লেখেন, “নীতি-নৈতিকতা ছাড়া আর যাই হোক কমিউনিস্ট পার্টি হয় না" সেই বিষয়টি নিয়েও বেশ চর্চা হয়। আর এবার সরাসরি পদত্যাগপত্র পাঠালেন প্রতিকুর।
জনপ্রিয় তরুণ নেতার আচমকা এই সিদ্ধান্ত
তাহলে কি তিনি ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছিলেন দলের অন্দরে? নাকি চলছে একনায়কতন্ত্র? কারণ, সিপিএম রাজ্য কমিটির সদস্য তথা প্রাক্তন ছাত্র নেতা প্রতিকুর পরিষ্কার লিখেছেন, তিনি জেলা এবং রাজ্য কমিটি ছাড়তে চান। শুধু তাই নয়, তিনি পার্টি দস্যপদ থেকেও অব্যাহতি নিতে চাইছেন।
অর্থাৎ, বিধানসভা নির্বাচনের আগে চূড়ান্ত বিপাকে পড়েছে লাল ঝাণ্ডা। একদিকে আসন সমঝোতা এবং জোট নিয়ে খারাপ জায়গায় আছে দল। তার মধ্যে এই জনপ্রিয় তরুণ নেতার আচমকা এই সিদ্ধান্ত। কারণ, দলের তরুণ প্রজন্মের আছে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন তিনি।
আর এই খবর সামনে আসতেই, দলের অনেক সমর্থক কার্যত, সোশ্যাল মিডিয়াতে লেখালিখি শুরু করে দিয়েছেন। শূন্যের গেড়ো কাটাতে গিয়ে দলের অন্দরেই চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

