তৃণমূলের ষাট জন বিধায়ক নিয়মিত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে দাবি করলেন ব্যারাকপুর থেকে জয়ী বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংহের। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে প্রচার করতে এসে যে চল্লিশজন তৃণমূল বিধায়কের কথা বলেছিলেন, তাঁরা ছাড়াও আরও ষাট জন তৃণমূল বিধায়ক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

অর্জুনের এই দাবিতে স্বভাবতই চিন্তা বাড়বে তৃণমূলের। তার উপরে অর্জুন ইঙ্গিত দিয়েছেন, তৃণমূলের একাংশই তাঁকে জিততে সাহায্য করেছেন। 

ভোটের ফল বেরনোর পর থেকেই তৃণমূল ভেঙে অনেক নেতাই বিজেপি-তে যোগ দিতে পারেন বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতারাও তা অস্বীকার করছেন না। অর্জুন সিংহের দাবি, যেহেতু তাঁরা দীর্ঘদিন তৃণমূলে ছিলেন, তাই পুরনো অনেক 'বন্ধু' এখন তাঁর সঙ্গে বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করছেন। 

অর্জুনের কথা অনুযায়ী তৃণমূলে ভাঙন এখন খালি সময়ের অপেক্ষা। ব্যারাকপুরে প্রেস্টিজ ফাইটে জয়ী অর্জুন বলেন,  "কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে, খুব শিগগিরই ফল পাওয়া যাবে। অনেক বড় বড় মাথারা আছে যাঁরা বিজেপি-তে যোগ দিতে চাইছে।" এর পরেই তৃণমূলের বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে দিতেই যেন অর্জুন বলেন, "সবাই তো বলেছিল নৈহাটি থেকে আমি লিড পাব না। কিন্তু নৈহাটিতেও আমি লিড পেয়েছি। ওখানকার বিধায়ক আমার পুরনো বন্ধু আছেন। তিনি আমায় সাহায্য করেছেন।" এ বিষয়ে এখনও নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিকের বক্তব্য অবশ্য জানা যায়নি। তবে অর্জুনের মতো দীর্ঘদিন যাঁরা বিজেপি গিয়েছেন, তাঁরাই এখন তৃণমূলের সত্যিকারের বিপদ। কারণ বিজেপিতে যোগ দিতে ইচ্ছুক তৃণমূল নেতাদের যোগসূত্র হতে পারেন অর্জুনরাই। 

তবে একা অর্জুন নন, এ দিন সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও একই ধরনের দাবি করে তৃণমূল নেতাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। ২০২১-এর রাজ্য বিধানসভা ভাঙার চেষ্টা তাঁরা করবেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবেও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য় করে দিলীপ বলেন, "রাজনীতিতে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়।"