এবার কাঁচরাপাড়ায় বৈঠক করতে গিয়ে জয় শ্রীরাম ধ্বনির মুখে পড়লেন তৃণমূল নেতারা। যা নিয়ে চরম উত্তেজনা ছড়ালো এলাকায়। দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ালেন বিজেপি কর্মীরা। বিজেপি সমর্থকদের সরিয়ে দিতে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে গেল পুলিশ বাহিনী। 

আগামী ১৪ তারিখ মুকুল রায়ের খাসতালুক উত্তর চব্বিশ পরগণার কাঁচরাপাড়ায় সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারই প্রস্তুতি সারতে এ দিন কাঁচরাপাড়াতেই এক দলীয় নেত্রীর বাড়িতে সাংগঠনিক বৈঠক ডেকেছিল তৃণমূল। সেই বৈঠকে যোগ দিতেই এ দিন কাঁচরাপাড়ায় যান জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, তাপস রায়, সুজিত বসুর মতো তৃণমূলের মন্ত্রীরা। 

বৈঠকের আগে থেকেই এলাকায় ভিড় জমান বিজেপি সমর্থকরা। মন্ত্রীদের দেখেই তাঁরা জয় শ্রীরাম স্লোগান দিতে শুরু করেন। মন্ত্রীদের নিরাপত্তা দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশবাহিনী। তারা গিয়ে বিজেপি সমর্থকদের জয় শ্রীরাম স্লোগান দিতে নিষেধ করে। যদিও, পুলিশের এই দাবি মানতে চাননি বিজেপি সমর্থকরা। এই নিয়ে দু' পক্ষে বচসা বাঁধে। লাঠি উঁচিয়ে বিজেপি সমর্থকদের দিকে তেড়ে গিয়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ বাহিনী। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যে ফেরত চলে আসেন তাঁরা। জয় শ্রীরাম স্লোগান দেওয়া ছাড়াও মুকুল রায়ের সমর্থনে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। ফের পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয় বিজেপি কর্মীদের। 

পুলিশ-বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ।

বিজেপি-র বিক্ষোভের মধ্যেই তৃণমূলের বৈঠক চলতে থাকে। তার মধ্যেই খবর আসে, ব্যারাকপুরের কাউগাছি এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সব সদস্যই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন। ফলে ওই গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূলের হাতছাড়া হতে চলেছে। 

গত বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নৈহাটিতে সভা করতে যাওয়ার পথেও দু' বার বিজেপি সমর্থকরা তাঁর গাড়ির সামনে গিয়ে জয় শ্রীরাম স্লোগান দেন। যার ফলে গাড়ি থেকে নেমে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ দশজনকে আটকও করে। কিন্তু এ দিনের ঘটনায় ফের প্রমাণিত, তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়াতে আপাতত জয় শ্রীরাম স্লোগানেই আস্থা রাখবে বিজেপি। 

মুকুল রায়ের পরে শুভ্রাংশু রায়ও বিজেপি-তে যোগ দেওয়ায় কাঁচরাপাড়া, বীজপুর, হালিশহর এলাকায় এখন বিজেপি-র একচেটিয়া দাপট। এলাকার প্রায় সমস্ত তৃণমূলের অফিসই বিজেপি-র দখলে চলে গিয়েছে। রাতারাতি দল বদলে ফেলেছেন শাসক দলের বহু কর্মী-সমর্থক। এই অবস্থায় কাঁচরাপাড়ায় ফের নিজেদের ভিত শক্ত করতে মরিয়া তৃণমূল। সেই লক্ষ্যেই সেখানে সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা। 

এ দিনের ঘটনার জন্য অবশ্য বিজেপি-র দিকেই আঙুল তুলেছেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তাঁর অভিযোগ, মুকুল রায়ের নেতৃত্বে নতুন যারা বিজেপি-তে গিয়েছে, তারাই অশান্তি পাকানোর জন্য জয় শ্রীরাম স্লোগান দিয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি আটকানোর জন্যই জগদ্দলে ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ, জয় শ্রীরাম বলার জন্য নয়।