কারও কারও বিধি বাম। একথা আরেকবার জানলেন তেজবাহাদুর যাদব। প্রধানমন্ত্রীর চোখে চোখ রেখে বারাণসীতে লড়াইয়ে স্বপ্ন তেজবাহাদুরের অধরাই থেকে গেল ।

"ভারতীয়র সেনার অন্দরে দুর্নীতি ছেয়ে গেছে। ক্ষমতা পেলে আমি তা দূর করার জন্যেই কাজ করতে চাই", এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে যে লড়াই শুরু করেছিলেন বিক্ষুব্ধ জওয়ান তেজহবাহাদুর তা শেষ হল না। মাঝপথেই থমকে যেতে হল তাঁকে। নির্বাচন কমিশন বাতিল করল তেজবহাদুরের মনোনয়ন।

গত ২৪ এপ্রিল স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন তেজবাহাদুর। তারপর মহাগঠবন্ধনের তরফে তাঁর দিকে হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয় । এগিয়ে আসে  সমাজবাদী প্রার্থী। সপা-র হয়ে একটি পৃথক মনোনয়ন জমা দেন তেজবাহাদুর। কমিশন নোটিশ জারি করে জানায় সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়ার ব্যাপারটি বিস্তারিত উল্লেখ নেই এই মনোনয়নে। কারণ দর্শাতে বলা হয় তেজবাহাদুরকে। এদিন নির্বাচন কমিশন তরফে জানানো হয় তাঁর মনোনয়নটি বাতিল করা হচ্ছে। স্বভাবতই মহাজোটের পক্ষে বিরাট ধাক্কা এই ঘটনা। শালিনী যাদবকে সরিয়ে তেজবাহাদুরকেই প্রধান মুখ করতে চেয়েছিলেন তাঁরা। ১৯ মে বারাণসীতে নরেন্দ্র মোদী বনাম তেজবাহাদুর লড়াইয়ে কার্যত জল ঠেলে দিল কমিশন। 

এশিয়ানেট নিউজ বাংলার তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে হতাশা ঝড়ে পড়ল তাঁর গলায়। "অন্যায় ভাবে আমায় লড়তে দেওয়া হচ্ছে না। আগের দিন আমার কাছে যা যা প্রমাণ চাওয়া হয় আমি তা দাখিলও করেছি। আমরা এবার সুপ্রিম কোর্টে যাব।"


তেজবাহাদুরের কী কোনও আশা আছে? তাকে কি শেষ দফায় দেখা যাবে। রাজনৈতিক মহল বলছে, নতুন মনোনয়ন পুরনো মনোনয়নটিকে অকার্যকর করেছে। এটিও বাতিল হল। একমাত্র ভরসা সুপ্রিম কোর্টই।

২০১৭ সালে জানুয়ারি কাশ্মীর থেকে সেনাবাহিনীর খাবারের নিন্দা করে একটি ভিডিও শেয়ার করেন তেজবাহাদুর। গোটা দেশে ভাইরাল হয় ভিডিওটি। তেজবাহাদুরের অভিযোগ ছিল সেনা আধিকারিকরা খাবার ও অন্য জিনিস বাইরে বিক্রি করে মোটা অর্থ  রোজগার করে। বিস্ফোরক অভিযোগের যথেষ্ট মাশুল গুণতে হয়েছে তেজবাহাদুরকে।  তাঁকে রাতারাতি ত্রিপুরায় বদলি করে দওয়া হয়। এখানেই শেষ নয় এবার কুম্ভমেলায় প্রহরারত অবস্থায় খবর পান হরিয়ানার শান্তিবিহার অঞ্চলে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে ২২ বছর বয়সি ছেলে রোহিতের।  তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায় অবিচারই হাতিয়ার ছিল তেজবাহাদুরের। সেই হাতিয়ার কি ১৯ মে প্রয়োগ হবে? গোটা দেশের চোখ সুপ্রিম কোর্টে।