ভোটের ফল বিশ্লেষণের পরে যত নতুন নতুন তথ্য উঠে আসছে, ততই চিন্তা বাড়ছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের পনেরো মন্ত্রীর নিজের বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল পিছিয়ে পড়েছে। সেখানে শাসক দলের থেকে বেশি ভোট পেয়ে এক নম্বরে উঠে এসেছে বিজেপি। শুধু মন্ত্রীরাই নন, তৃণমূলের দলীয় পদাধিকারীরাও এই তালিকায় রয়েছেন। এমন কয়েকজন মন্ত্রী রয়েছেন, যাঁরা রাজ্য রাজনীতিতে যথেষ্ট পরিচিত মুখ, দলেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। 

এক নজরে দেখে নিন রাজ্যের কোন কোন মন্ত্রী কোন বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পিছিয়ে রয়েছেন। এই সবকটি কেন্দ্রেই বিধানসভা অনুযায়ী ফলের নিরিখে তৃণমূলের থেকে বেশি ভোট পেয়েছে বিজেপি-

  • সুজিত বসু, দমকল মন্ত্রী, কেন্দ্র- বিধাননগর
  • শশী পাঁজা, নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী, কেন্দ্র- শ্যামপুকুর
  • জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, খাদ্যমন্ত্রী, কেন্দ্র- হাবড়া
  • শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিদ্যুৎমন্ত্রী, কেন্দ্র- রাসবিহারী
  • তপন দাশগুপ্ত, কৃষি বিপণন মন্ত্রী, কেন্দ্র- সপ্তগ্রাম
  • গৌতম দেব, পর্যটন মন্ত্রী, কেন্দ্র- ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি
  • রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী, কেন্দ্র- নাটাবাড়ি
  • বাচ্চু হাঁসদা, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, কেন্দ্র- তপন
  • উজ্জ্বল বিশ্বাস, কারামন্ত্রী, কেন্দ্র- কৃষ্ণনগর দক্ষিণ
  • মলয় ঘটক, শ্রমমন্ত্রী, কেন্দ্র- আসানসোল
  • রত্না ঘোষ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিমন্ত্রী, কেন্দ্র- চাকদহ
  • আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, কৃষিমন্ত্রী, কেন্দ্র- রামপুরহাট
  • লক্ষ্মীরতন শুক্ল, ক্রীড়ামন্ত্রী, কেন্দ্র- হাওড়া উত্তর
  • বিনয়কৃষ্ণ বর্মন, বনমন্ত্রী, কেন্দ্র- মাথাভাঙা
  • শান্তিরাম মাহাতো, পশ্চিমাঞ্চল উন্নয় মন্ত্রী, কেন্দ্র- বলরামপুর

এছাড়াও তৃণমূলের নদিয়ার জেলা সভাপতিগৌরীশঙ্কর দত্তের কেন্দ্র তেহট্টতেও বিজেপি-র কাছে পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল। আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তেওয়ারির কেন্দ্র পাণ্ডবেশ্বরেও পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল। একইভাবে যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রেও বিজেপি-র কাছে পিছিয়ে পড়েছে সিপিএম। সেখানকার বর্তমান বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী।

এবারের লোকসভা ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের মোট ১২৯টি বিধানসভা কেন্দ্রে এগিয়ে গিয়েছে বিজেপি। ১৫৮টি কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। এই অবস্থায় খারাপ ফলের পর্যালোচনা করতে এ দিনই কালীঘাটে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।