মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ালেন কলকাতার বিদ্বজনেরা। মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে তাঁরাও বিজেপি-কে রুখে তৃণমূলকে জয়ী করার আবেদন করলেন মানুষের কাছে।

গত মঙ্গলবার কলকাতার প্রেস ক্লাবে একটি সমাবেশ হয়। এই সমাবেশে হাজির ছিলেন কলকাতার বিভিন্ন ক্ষেত্রের বুদ্ধিজীবিরা। উপস্থিত ছিলেন কবি জয় গোস্বামী, সুবোধ সরকার, চিত্রকর শুভাপ্রসন্ন, কবীর সুমন, অরিন্দম শীল, প্রসূন ভৌমিক, নলিনী  বেরা, হরনাথ চক্রবর্তীরা। এঁরা প্রত্যকেই বিজেপিকে রুখে তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান দেয়।

এদিন কবি সুবোধ সরকার  বিজেপির উপরে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ওরা বিবেকানন্দের কথা বলে! বিজেপি জানে না, বিবেকানন্দ বেঁচে থাকলে ওদের সহ্য করতেন না। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসায় তিনি বার বার সংবাদমাধ্যমের সামনে পঞ্চমুখ হয়েছেন। সেই কবীর সুমন এবার বলেন তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পাশে আছেন। এমনকী বামদেরকেও মমতার পাশে দাঁড়ানোর ডাক দিয়েছেন তিনি। সুমন বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় দেখিয়ে দিয়েছেন তহবিলের টাকা খরচ করার জন্যই। তাও বামেরা তাঁকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করছেন। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে বামেদের মমতার পাশে দাঁড়ানো উচিত। 

ভোটের আগে নরেন্দ্র মোদী। এই বিষয়টিকে কবি জয় গোস্বামী নৈতিক জয় বলছেন। কবি বলছেন, মমতাকে ভয় পায় বলেই মোদী-শাহ জুটি বার বার এ রাজ্যে আসছেন। এসময়ে মমতার পাশে দাঁড়ানোই শুভবুদ্ধির কাজ হবে। 

কিন্তু এ রাজ্য়ে এখন বিরোধী দলগুলির মধ্য়ে বিজেপিই প্রধান। আগে বাম বা কংগ্রেস যেখানে ছিল তার থেকে খানিকটা এগিয়ে রয়েছে গেরুয়া শিবির। এই প্রসঙ্গে নাট্য ব্যক্তিত্ব শাঁওলি মিত্র বলেন, এ হতে দেবেন না। গোটা  দেশে দলিতদের উপরে অত্যাচার করছে বিজেপি। এই বিজেপির বিরুদ্ধে একা মমতা লড়ছেন। ওঁর প্রতিবাদের পাশে আমরা রয়েছি। 

এই মঙ্গলবারই কলকাতার রাজপথে ছিল অমিত শাহের রোড শো। সেসবের মাঝেই প্রেস ক্লাবে পৌঁছন বুদ্ধিজীবীরা। শুভাপ্রসন্ন বলেন, রাস্তা দিয়ে আসতে গিয়ে দেখি একটা মিছিলে লোকজন অশালীন অঙ্গভঙ্গি করছেন। গেরুয়া ত্যাগের রং। তবে এ সেই গেরুয়া নয়। 

শেষ দফার ভোটের আগে মমতার পাশে বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে ফলাফল কী হবে তা সময়ই বলতে পারে।