শেষ দফার ভোটের সময় যত এগিয়ে আসছে তত বাড়ছে চাপান উতর। ১৯ মে বাংলায় ভোট। এদিন উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতাতেও ভোট। ফলে ভোটের দিনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে কলকাতা পুলিশও। 

ভোটের ঠিক একদিন আগে থেকে  মূলত দুটি বিষয়ের উপর নজর দিচ্ছ কলকাতা পুলিশ। প্রথমত ভোট চলাকালীন বুথে যাতে কোনও বহিরাগত প্রবেশ করতে না পারে। দ্বিতীয়ত, ভোটের দিনগুলিতে কেউ যাতে অশান্তি সৃষ্টি না করে, সেদিকে নজর রাখা। 

প্রত্যেকটি থানাকে নির্দেশ দেওয়া রয়েছে, দিনে দুবার এলাকার সমস্ত হোটেল, রেস্তোরাঁ, গেস্ট হাউস, কমিউনিটি হলে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একবার দিনে ও একবার রাতে। কোনও হোটেলে বা লজে নাম ও অন্যান্য তথ্য না দিয়ে যদি গেস্ট থাকে, সেক্ষেত্রে সেই হোটেলের মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হবে। 

লালবাজার সপ্তম দফার ভোট নিয়ে কোনও রকমের ঝুঁকি নিতে চাইছে না। গত মঙ্গলবার অমিত শাহের রোড শো-কে ঘিরে কলকাতার রাস্তায় অশান্তি তৈরি হয়েছিল। তার জন্য আমহার্স্ট্রিট থানার ওসিকে বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। তাই কোনও রকমের ফাঁক রাখতে চাইছে না কলকাতা পুলিশ।  শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে সমস্ত পুলিশকর্মীকে নিয়ম বিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

এদিন কলকাতায় ৪৭৫৫টি বুথে ভোট হবে বলে জানা গিয়েছে। কলকাতা পুলিশের আওতায় থাকবে উত্তর কলকাতা, দক্ষিণ কলকাতা। এছাড়া যাদবপুর, ডায়মন্ড হারবার ও জয়নগরের কিছু অংশ। 

প্রসঙ্গত, ১৯ মে সপ্তম দফায় বাংলার ৯টি কেন্দ্রতে ভোট হবে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তর কলকাতা, দক্ষিণ কলকাতা, দমদম, যাদবপুর, জয়নগর, মধুরাপুর, ডায়মন্ড হারবার, বারাসত, বসিরহাট। 

কলকাতা দক্ষিণ কেন্দ্রে তৃণমূল থেকে জয়ী হয়েছিলেন সুব্রত বক্সী। এবার এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মালা রায়। এই কেন্দ্রের তাৎপর্যপূর্ণ প্রার্থী হল সিপিএম-এর নন্দিনী মুখোপাধ্যায়। বিজেপি থেকে রয়েছেন চন্দ্র কুমার বসু। 

কলকাতা উত্তর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারে তাঁর বিপরীতে রয়েছেন বিজেপি থেকে রাহুল সিনহা এবং সিপিএম থেকে কণীনিকা বোস ঘোষ। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।