১৯৮৪ সালের শিখ দাঙ্গা প্রসঙ্গে  স্যাম পিত্রোদার বেফাঁস মন্তব্যের জন্য তৈরি হওয়া বিতর্কের ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে পড়লেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী। পঞ্জাবে ভোট প্রচারে গিয়ে পিত্রোদার সমালোচনা করে তিনি বললেন, শিখ দাঙ্গার অভিযুক্তদের শাস্তি হবেই।

কয়েকদিন আগেই নরেন্দ্র মোদী সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে পিত্রোদা শিখ নিধন প্রসঙ্গে তাচ্ছিল্যের সুরে বলেছিলেন, "যা হয়েছে তা হয়েছে।" ভোটের মধ্যে পিত্রোদার এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করেন নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি। অস্বস্তিতে পড়ে কংগ্রেস. বিশেষত শিখ নিধন আজও পঞ্জাবের মতো রাজ্যে ভোটের ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। তাই দেরি না করে সেই পঞ্জাবে গিয়েই পিত্রোদার মন্তব্যের সমালোচনা করলেন রাহুল। হোসিয়ারপুরে একটি জনসভা থেকে রাহুলের প্রতিশ্রুতি,  যাঁরা শিখ নিধনের সঙ্গে যুক্ত, সেই অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে কড়া শাস্তি দেওয়া হবে।

রাহুল বলেন, "কয়েকদিন আগে স্যাম পিত্রোদা ১৯৮৪ সালের ঘটনা নিয়ে একটি মন্তব্য করেছেন। আমি তাঁকে ফোন করে বলেছি, আপনি যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ ভুল এবং এরজন্য আপনার ক্ষমা চাওয়া উচিত। ১৯৮৪ সালে যা হয়েছিল তা অপরাধ এবং আজও মানুষকে যন্ত্রণা দেয়। মানুষের এই ভাবাবেগকে মর্যাদা দেওয়া উচিত। ১৯৮৪ সালের ওই ঘটনার জন্য যারাই  দায়ী, তাদের অবশ্যই শাস্তি হওয়া উচিত এবং হবেও।"

হোসিয়ারপুরের পরে খন্নার সভা থেকেও একইভাবে পিত্রোদার মন্তব্যের সমালোচনা করেন কংগ্রেস সভাপতি। সেখানে আরও কঠোর সুরে তিনি বলেন, নিজের মন্তব্যের জন্য পিত্রোদার লজ্জিত বোধ করা উচিত এবং প্রকাশ্যে দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। ফোনে তিনি পিত্রোদাকে একথা বলেছেন বলেও দাবি করেন রাহুল।

বিজেপি-অকালি জোটকে হারিয়ে পঞ্জাবে ক্ষমতায় এসেছে কংগ্রেস। কিন্তু পিত্রোদার মন্তব্যকে হাতিয়ার করে শেষ দফার ভোটের আগে পঞ্জাবে কংগ্রেস বিরোধী প্রচারে হাতিয়ার পেয়ে গিয়েছিল বিজেপি। ১৯৮৪ সালের ঘটনা নিয়ে বিজেপি-র সেই অস্ত্রকে ভোঁতা করে দিতেই এ দিন প্রকাশ্যে পিত্রোদার সমালোচনা করে দলের নেতাকেই কড়া বার্তা দিলেন রাহুল গাঁধী।