হিন্দু পুরাণের ঋষি দুর্বাসার কথা সকলেরই জানা। সামান্য থেকে সামান্য বিষয়ে তাঁর রাগ চড়ত সপ্তমে। অল্প কথাতেই ক্ষুণ্ণ ভয়ঙ্কর সব অভিশাপ দিতেন দুর্বাসা মুণি। দুর্বাসা কথার অর্থ যার সঙ্গে বাস করা যায় না। ঋষি দুর্বাসাও ছিলেন এতই রাগী যে অভিশাপের ভয়ে তাঁর ধারেকাছে ঘেঁষতে দেবদেবীরা পর্যন্ত ভয় পেতেন।  এই কলিযুগেও এমনই এক দুর্বাসা মুণির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। তিনি বিজেপি নেতা সাক্ষী মহারাজ। 

পুরাণের বিভিন্ন কথা তুলে এনে নাকি তিনি ভোট চাইছেন। এমনকী ভোট প্রচারের সময়ে পৌরাণিক ঋষিমুণিদের কায়দায় সাক্ষী মহারাজ বলেন, "আমি একজন সন্ন্যাসী। আমায় ভোট দিলে আমি জিতব। না হলে মন্দিরে মন্দিরে ভজন-কীর্তন করব। কিন্তু আজ আমি মানুষের দরজায় গিয়ে ভোট চাইছি। একজন সন্ন্যাসী ভোট না দিয়ে প্রত্যাখ্যান করলে আমি অভিশাপ দেব। আপনার জীবনের সমস্ত সুখ কেড়ে নেব।"

উন্নাও-এর বিজেপি প্রার্থীর এই মন্তব্য মুহূর্তে ভাইরাল হয়। শুরু হয় বিতর্ক। তবে এই প্রথম নয়। এর আগেও উন্নাও-এর বিজেপি নেতা সাক্ষী মহারাজ বিভিন্ন মন্তব্য করে বিতর্ক তৈরি করেছেন। কিন্তু এবার ধর্ম ও পুরাণকে ব্যবহার করে তিনি যেভাবে মানুষকে ভয় দেখিয়েছেন, তার জন্য বিরোধী দলগুলির নিন্দার মুখে পড়েছেন তিনি।   

বিরোধী দলগুলি নিন্দা করে বলছে, অভিশাপের ভয় দেখিয়ে মানুষের কাছে ভোট চাওয়ার ঘটনা বেনজির। তবে সাক্ষী মহারাজের এই মন্তব্য নিয়ে গেরুয়া শিবির থেকে এখনও কেউ মুখ খোলেনি।