শেষ দফার ভোটের আগে মুকুল রায়ের উপরে চাপ আরও বাড়াতে নির্বাচন কমিশনে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। এ রাজ্যের ভোটার না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে প্রচার পর্ব শেষ হওয়ার পরেও এ রাজ্যে রয়েছেন বিজেপি নেতা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী সঞ্জয় বসু। একই সঙ্গে শেষ দফার ভোটে মুকুলের উপরে যাতে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়, সেই দাবিও জানানো হয়েছে তৃণমূলের তরফে।

ভোটার হিসেবে দিল্লি থেকে ভোট দেন মুকুল রায়। সেখানকার ভোটার তালিকাতেই নাম রয়েছে তাঁর। ষষ্ঠ দফার ভোটে দিল্লি থেকে ভোট দিয়ে ফেরার সময়ই বিমানবন্দর এবং ভিআইপি রোডে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দু' বার তল্লাশি চালানো হয় এই বিজেপি নেতার গাড়িতে। গোটা নির্বাচন পর্বেই প্রাক্তন দলের সঙ্গে মুকুলের সংঘাত ছিল চরমে। দু' দিন আগে নাগেরবাজারেও একটি গেস্ট হাউজে মুকুলের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। 

তৃণমূল বার বারই অভিযোগ করেছে, এ রাজ্যে মুকুল রায়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে সুবিধা পাচ্ছে বিজেপি। আবার তাঁর  হাত ধরেই রাজ্যে ভোট কিনতে বিজেপি বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার করছে বলেও অভিযোগ করেছে শাসক শিবির। মুকুলের নাম না নিয়েও তাঁকে গদ্দার বলে বার বার আক্রমণ শানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের প্রথম সারির নেতানেত্রীরা। এবার শেষ দফার ভোটে মুকুল রায় যাতে সক্রিয় না হতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই আগে ভাগে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়ে রাখল তৃণমূল।

রবিবার শেষ দফায় রাজ্যের ন'টি আসনে ভোটগ্রহণ। আগের দফাগুলি থেকে শিক্ষা নিয়ে এবারে আরও কড়া হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। রবিবারও সব বুথে থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সাধারণত ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের একশো মিটারের মধ্যে কোনও জমায়েত করা যায় না, একশো চুয়াল্লিশ ধারা জারি থাকে। রবিবার এ রাজ্যে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র থেকে দুশো মিটারের মধ্যে এই নিয়ম লাগু হচ্ছে। মোট সাতশো দশ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রবিবার মোতায়েন থাকছে। নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণের জন্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে ফোন করে নির্দেশ দিয়েছেন উপ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন।