ভোটের ফল বেরনোর দিনই কি বড় ধাক্কা খেতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস? একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি সংবাদমাধ্যমের খবরে দাবি করা হচ্ছে, এক্সিট পোলের ফল ঘোষণার পরেই ফোনে বিজেপি-র এক বড় নেতার সঙ্গে কথা বলছেন তৃণমূলের দুই বর্তমান সাংসদ। এবারও তাঁরা ভোটে দাঁড়িয়েছেন বলেই দাবি করা হচ্ছে। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, দলে স্বাগত জানিয়েও ওই দুই সাংসদকেই পাল্টা শর্ত দিয়েছে বিজেপি-ও।

ভোট প্রচারে এসেই প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছিলেন, তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের চল্লিশ জনেরও বেশি বিধায়ক যোগাযোগ রাখছেন। সেই দাবি ঘিরে পাল্টা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ঘোড়া কেনাবেচার অভিযোগ এনেছিল তৃণমূল। কিন্তু রবিবার শেষ দফার ভোটের পরে প্রায় সব এক্সিট পোলেই এ রাজ্যে বিজেপি-র প্রবল উত্থানের ইঙ্গিত দেওয়ার পরে দলবদলের সেই সম্ভাবনা ফের একবার জোরালো হয়ে উঠেছে। দুই তৃণমূল সাংসদের বিজেপি নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা সেই সম্ভাবনাতেই সিলমোহর দিল। 

দাবি করা হচ্ছে, এক্সিট পোলের ফল দেখার পরেই অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে ফোনে দিল্লির ওই বিজেপি নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন দুই তৃণমূল সাংসদ। বিজেপি নেতার কাছে তাঁরা জানাতে চান, তৃণমূল ছাড়লে তাঁরা কী বিজেপি-তে গিয়ে কতটা গুরুত্ব পাবেন? জবাবে ওই বিজেপি নেতা তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, বিজেপি-তে এলে যথাযথ সম্মান দেওয়া হবে তাঁদের। 

একই সঙ্গে অবশ্য বিজেপি-তে যোগদানে আগ্রহী দুই তৃণমূল সাংসদকে একটি শর্তও দেওয়া হয়েছে বিজেপি-র তরফে। দুই নেতাকেই বলা হয়েছে, তাঁরা যদি জেতেন এবং বিজেপি-তে যোগ দিতে চান, তাহলে তা ২৩ মে-ই করে ফেলতে হবে। শুধু তাই নয়, কলকাতার বিজেপি অফিসে সশরীরে হাজির হয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান পর্ব সারতে হবে। তবে চাইলে সাংবাদিকদের সঙ্গে ওই দুই নেতা কথা নাও বলতে পারেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বৃহস্পতিবার ফলপ্রকাশের পর পরই ইচ্ছুক তৃণমূল সাংসদদের দলে টেনে নিতে চাইছে গেরুয়া শিবির। সেক্ষেত্রে একদিকে যেমন মমতা ঘর গোছানোর সময় পাবেন না, অন্যদিকে দিল্লিতে সরকারের ভাগ্য নির্ধারণেও তৃণমূলের গুরুত্ব কমবে। 

এক্সিট পোলে বিজেপি-র প্রত্যাবর্তন এবং এ রাজ্যে তৃণমূলের শক্তিক্ষয়ের আভাস পাওয়ার পরে যে শাসক দলের অনেক নেতাই এ ভাবে হাওয়া বোঝার চেষ্টা করছেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বৃহস্পতিবারই অবশ্য পরিষ্কার হয়ে যাবে, এক্সিট পোলের পূর্বাভাস মিলে গেল নাকি সবাইকে ভুল প্রমাণ করে বাংলার গড় অক্ষত রাখতে পারল তৃণমূল। কারণ সত্যিই যদি এ রাজ্যে  বিজেপি নিজেদের দাবি  মতো আসনসংখ্যা অনেকটা বাড়িয়ে নিতে সক্ষম হয়, সেক্ষেত্রে দলের ভাঙন আটকানোই বড় চ্যালেঞ্জ হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে।