গণপতি বিসর্জনের পর জুহু সৈকত পরিষ্কার করতে 'সি শোর শাইন ২০২৬' অভিযানে যোগ দেন অভিনেতা অজয় দেবগন এবং অমৃতা ফড়নবিশ। দিব্যজ ফাউন্ডেশন, বিএমসি ও মুম্বই পুলিশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মেগা ক্লিন-আপ ড্রাইভে পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের সচেতন করা হয়।

অভিনেতা অজয় দেবগন, অমৃতা ফড়নবিশ এবং পুরসভার আধিকারিকরা শনিবার গণপতি বিসর্জনের ঠিক পরের দিন জুহু সৈকতে 'সি শোর শাইন ২০২৬' পরিচ্ছন্নতা অভিযানে যোগ দেন। দিব্যজ ফাউন্ডেশন, বিএমসি (BMC) এবং মুম্বই পুলিশের যৌথ উদ্যোগে এই মেগা ক্লিন-আপ ড্রাইভের আয়োজন করা হয়। জুহু সৈকতের 'এ' গেটে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিশিষ্ট ব্যক্তি, পুরসভার আধিকারিক, পড়ুয়া, এনজিও, স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ মানুষ একজোট হন। উৎসবের পর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সমুদ্র দূষণ রোধ এবং মুম্বইয়ের উপকূল রক্ষায় নাগরিকদের সচেতন করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

যৌথ দায়িত্বের কথা মনে করালেন অজয় দেবগন

অভিনেতা অজয় দেবগন এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, "সৈকত পরিষ্কার রাখা শুধু কোনও একটা সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নয়। এটা নাগরিকদের সম্মিলিত শৃঙ্খলা আর সচেতনতার পরিচয়। দিব্যজ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগের পাশে থাকতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। এটা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বৃহত্তর স্বার্থে মানুষ যখন একজোট হয়, তখনই আসল বদলটা আসে।" সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি আরও বলেন, "যেহেতু এটা একটা দারুণ সৃজনশীল উদ্যোগ, তাই আমি পুরো টিমকে ধন্যবাদ জানাতে চাই... আমি এর অংশ হতে চেয়েছিলাম, আর এখন আমি এর অংশ।"

শহরের প্রতি আবেগপূর্ণ প্রতিশ্রুতি: অমৃতা ফড়নবিশ

দিব্যজ ফাউন্ডেশনের কর্ণধার অমৃতা ফড়নবিশ জানান, মুম্বইয়ের পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ করে যুবসমাজকে আরও বেশি করে এগিয়ে আসার উৎসাহ দিতেই এই প্রচার। তিনি বলেন, "সমুদ্রই মুম্বইয়ের আসল পরিচয়, সৌন্দর্য আর প্রাণশক্তি। আমাদের উপকূল পরিষ্কার রাখাটা শুধু নাগরিক দায়িত্ব নয়, এটা আমাদের প্রিয় শহরের প্রতি একটা আবেগপূর্ণ প্রতিশ্রুতি। 'সি শোর শাইন'-এর মাধ্যমে আমরা আশা করছি আরও বেশি মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম পরিবেশের দায়িত্ব নেবে এবং পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে।"

এএনআই-কে (ANI) অমৃতা জানান, গণপতি বিসর্জনের পর সৈকতে জমে থাকা বর্জ্য পরিষ্কার করতেই এই উদ্যোগ। পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ যেন শুধু একদিনের ইভেন্টে আটকে না থাকে, সেদিকেও জোর দেন তিনি। তাঁর কথায়, "আজ আমরা জুহু সৈকতে 'সি শোর শাইন' ক্যাম্পেনের জন্য এসেছি। দিব্যজ ফাউন্ডেশন, বিএমসি আর মুম্বই পুলিশ মিলে এর আয়োজন করেছে। আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, গণপতি বিসর্জনের পর সৈকতে প্রচুর আবর্জনা জমেছে। বাচ্চা আর তরুণরা যখন এই ধরনের উদ্যোগে অংশ নেয়, তখন তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ে। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে কীভাবে বাঁচতে হয়, সেটা তারা শেখে। আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যেমন বজায় রাখতে হবে, তেমনই পরিবেশবান্ধব উপায়ে কীভাবে উৎসব উদ্‌যাপন করা যায়, সেটাও এই ধরনের কর্মসূচি আমাদের শেখায়। এটা শুধু একদিনের ব্যাপার হওয়া উচিত নয়, এটাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে কীভাবে বাঁচতে হয়, সেটা আমাদের শিখতে হবে।"

সচেতনতা ও যৌথ পদক্ষেপ নিয়ে পুরসভার আধিকারিকদের বার্তা

বিএমসি কমিশনার অশ্বিনী ভিড়ে জানান, প্রাকৃতিক সম্পদ আর জলাশয় নিয়ে সচেতনতা তৈরি করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, "দিব্যজ ফাউন্ডেশন আর মুম্বই পুরসভার যৌথ উদ্যোগে এই বিচ-ক্লিনআপ প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ আর জলাশয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। মুম্বইয়ের পরিচয়ের সঙ্গে এর উপকূল আর সমুদ্র ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তাই সমুদ্র পরিষ্কার রাখা আর তাকে রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আজকের এই কর্মসূচি মুম্বইয়ের সব নাগরিক, বিশেষ করে যুবসমাজের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর একটা প্রতীকী প্রচেষ্টা। আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের মূল্য বোঝা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেগুলোকে রক্ষা করতে যৌথভাবে পদক্ষেপ নেওয়াটা খুব জরুরি।"

বিজেপি-র মুম্বই সভাপতি অমিত সাতম এই অভিযানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "আজ দিব্যজ ফাউন্ডেশন জুহু সৈকতে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আয়োজন করেছে। সমাজের সব স্তরের বিভিন্ন সংস্থা বিএমসি-কে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে। স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, আধ্যাত্মিক সংগঠন, এনজিও এবং আরও অনেকে মিলে বিএমসি-র এই দারুণ উদ্যোগকে সমর্থন করতে একজোট হয়েছে..."

প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা নিয়ে সাতম আরও বলেন, "পুরো শহর জুড়ে বিএমসি যে ব্যবস্থা করেছে, তাতে আমরা দেখেছি ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ প্রতিমা কৃত্রিম জলাশয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। শুধু কয়েকটা বড় প্রতিমা সমুদ্রে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় বিএমসি-র এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।"

অভিযানে ব্যাপক অংশগ্রহণ

এই অনুষ্ঠানে ঘাটকোপারের বিধায়ক রাম কদম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মেঘাশ্রেয়-র প্রতিষ্ঠাতা সীমা সিং, নাহার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এবং নাহার গ্রুপের সিএমডি সুখরাজ নাহার, শিক্ষাবিদ ও নার্সি মঞ্জি এডুকেশনাল ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুজয় জয়রাজ, ডোম এন্টারটেইনমেন্ট গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাজহার নাদিয়াদওয়ালা, মুরারকা গ্রুপের ব্রজেশ মুরারকা এবং অ্যাসোসিয়েশন অফ সোশ্যাল বিয়ন্ড বাউন্ডারিজ-এর সাগর জৈন।

মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের মেয়ে দিভিজা ফড়নবিশও এই অভিযানে অংশ নেন। শহর আর সমুদ্রের প্রতি ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ। আমাদের শহর আর সমুদ্রের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব আমাদেরই। সবকিছু নিজে থেকে হয়ে যাবে, এমনটা আশা করা উচিত নয়। আজ যেমন এত পড়ুয়া আর এনজিও এগিয়ে এসেছে, আমাদেরও সেভাবেই সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া উচিত। এটা সত্যিই একটা দারুণ উদ্যোগ, আর আমার মনে হয় দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে এটাই আমাদের সবার শুরুর জায়গা হওয়া উচিত।”