বাংলা ছবি কি শহর-কেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে? আরও ভালোভাবে বললে কলকাতা-কেন্দ্রিক ছবির রমরমা বেড়েছে অনেকখানি। আর সিনেমা তো তেমনি হয়  যেমন দর্শক দেখতে চায়। তাই বাণিজ্যিক ছবির প্লট কলকাতা ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। আগে গ্রামের জীবন, গল্প উঠে আসত বাংলা ছবিতে। সাহিত্য-নির্ভর ছবিগুলো গ্রামের  জীবন ফুটিয়ে তুলত সরলতার সঙ্গে। কিন্তু এখন বদলে গেছে ছবিটা।  

গ্রাম-নির্ভর ছবি যতবার বানিয়েছেন নির্মাতারা সফল হয়নি একটাও সম্প্রতি। তাই পরিচালকরা এখন আর চান না গ্রামের গল্প সেলুলয়েডে নিয়ে আসতে। ব্যর্থতার ভয় পান তাঁরা। আর যে কয়েকটি ছবি হয় গ্রামজীবন নিয়ে তা আপামর দর্শকের কাছে পৌঁছয় না। সমান্তরাল যে ছবিগুলো তৈরি হয় তাতে যে কঠিন বাস্তব উঠে আসে তা দেখতে চান না মূলধারার ছবির দর্শকরা। মনোরঞ্জনমূলক ছবিতে আশার কথা থাকে,  সাধারণ দর্শক রোজকার জীবনের কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি হতে চান না, তারা আশার কথা শুনতে চান। 

দক্ষিণ ভারতের ছবিতে গ্রাম- শহর এখনও মিলেমিশে আছে। বাণিজ্যিক যে মশলা থাকে দক্ষিণি ছবিতে তার ফলেই দর্শক টানতে ওরা সফল হয়।  আমরা এখনও তা পারিনি। আমাদের যে ছবিতে বাস্তবতা উঠে আসে তা মূলত আর্ট ফিল্ম এবং সেসব ছবির দর্শকও কলকাতার।   মাল্টিপ্লেক্স-এ যাওয়া দর্শক আর সিঙ্গল স্ক্রিনের দর্শকদের ফারাক কি রয়েই গেছে না কি সিঙ্গল স্ক্রিনের দর্শকরা এখন সৃজিত মুখার্জি, শিবপ্রসাদ মুখার্জি-নন্দিতা রায়, কমলেশ্বর মুখার্জিদের ছবি দেখেন?  শহুরে সমস্যা, শহুরে সংলাপ, শহুরে চরিত্রের সঙ্গে তারা কি একাত্ম হতে পারেন?

মফস্বল আর শহরের ফারাক অনেকখানি কমে গেছে তাই বেশ কিছু 'আর্বান' ছবি শহর ও শহরতলিতে সমানভাবেই চলে কিন্তু এখনকার পরিচালকদের কাছে গ্রামীণ জীবন, সমাজ, রাজনীতি আর সেইভাবে বিষয় হয়ে ওঠে না। ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। কিন্তু সেইসব ব্যাতিক্রমী পরিচালকরা বিনোদনমূলক নিটোল গল্প পরিবেশন করেন না। সেসব ছবি পুরস্কার পায় কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে সফল হয় না। তাই হয়তো প্রযোজকরা সেসব ছবিতেই বিনিয়োগ করতে চান যেখানে লক্ষ্মীলাভ নিশ্চিতভাবে হবেই।  কোনও একটি ছবির নাম না করেই বলা যায় যে এখনকার যে ছবির নামই পাঠকের মনে আসবে তার প্রেক্ষাপট হয় কলকাতা নয়তো শহুরে জীবন।