জনপ্রিয় অভিনেতা কলাভবন নবাসের মৃত্যুতে শোকের ছায়া। চোট্টানিক্কারার হোটেলে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার, আজ ময়নাতদন্ত।

জনপ্রিয় অভিনেতা কলাভবন নবাসের মৃত্যুতে শোকের ছায়া সর্বত্র। চোট্টানিক্কারার একটি হোটেলে গতকাল তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। আজ হবে তাঁর ময়নাতদন্ত। সকাল সাড়ে আটটায় তদন্ত শেষ করে ১০ টার দিকে ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্তের পর আলুভায় তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে মরদেহ। সেখানে আত্মীয়স্বজনরা শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। বিকেল চারটের দিকে আলুভা সেন্ট্রাল জুমা মসজিদে নিয়ে যাওয়া হবে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

গতকাল রাতে চোট্টানিক্কারার শুটিং সেট থেকে হোটেল রুমে ফিরেছিলেন নবাস। সেখানেই তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। হোটেল রুম থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। কিছুদিনের বিরতির পর আবার সিনেমায় সক্রিয় হয়ে উঠছিলেন তিনি। এই সময়েই ঘটলো এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা। অভিনেতা আবুবক্করের ছেলে নবাস। তার স্ত্রী অভিনেত্রী রাহনা।

মালয়ালম দর্শকদের হাসিয়ে হাসিয়ে কাঁদিয়েছেন এই অভিনেতা। হোটেলের রুম বয় প্রথমে তাঁকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি প্রয়াত ছিলেন বলে জানিয়েছেন হোটেল মালিক সন্তোষ। 'প্রকম্পনম' সিনেমার শুটিং শেষে হোটেলে ফিরেই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। আজ এবং আগামীকাল তাঁর শুটিং ছিল না, তাই বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। হাসপাতালে উপস্থিত সকলেই এই অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে শোকাহত।

সিরিয়াল, সিনেমা এবং স্টেজ শো-এর মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিলেন নবাস। কেরালার কলাভবন থেকে মিমিক্রি দিয়ে শুরু করে অভিনয় এবং গানেও দক্ষতা দেখিয়েছিলেন তিনি। স্পট কমেডিতেও তাঁর আবদান ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় অনুকরণের মাধ্যমে শুরু হয় ত্রিশূরের বাসিন্দা নবাসের মিমিক্রি জীবন। স্থানীয় যুব উৎসবে মিমিক্রিতে সবসময় প্রথম স্থান অধিকার করতেন তিনি। অভিনেত্রী ফিলোমিনার কণ্ঠস্বর অনুকরণ করে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন একবার।

কে এস প্রসাদের হাত ধরে কলাভবনে প্রবেশ করেন তিনি। আবেল আচার্যের সহযোগিতায় কলাভবনের স্টেজে নিয়মিত হয়ে ওঠেন। কুন্নমকুলামের একটি স্টেজ শো দিয়ে শুরু হয় তাঁর যাত্রা। গানের দক্ষতা তাঁকে মিমিক্রিতে আরও সাহায্য করে। নাটক এবং সিনেমার অভিনেতা আবুবক্করের ছেলে হিসেবে অভিনয় তাঁর রক্তে ছিল। টেলিভিশনের মাধ্যমে ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৯৫ সালে 'চৈতন্যম' সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন।

'মাট্টুপ্পেত্তি মাচ্চান', 'তিলানা তিলানা', 'মায়াজালম', 'জুনিয়র ম্যান্ড্রেক', 'মাই ডিয়ার করডি', 'চট্টাম্বি নাড়ু', 'মেরাম নাম শাজি' সহ অনেক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। বেশিরভাগই কমেডি চরিত্রে। গতকাল উদ্ধার হল তাঁর দেহ।