জীবনের শেষ দিনগুলোতে আসক্তি ও গৃহহীনতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন এই অভিনেত্রী…….
হলিউডের প্রাক্তন শিশু তারকা ডেভেইঘ চেইসের অকাল মৃত্যুর পর তার বাবা জন শওয়ালিয়ার প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন। দ্য রিং চলচ্চিত্রে সামারার চরিত্র এবং ডিজনির লিলো অ্যান্ড স্টিচ-এ লিলোর কণ্ঠ দেওয়ার জন্য পরিচিত এই অভিনেত্রী গত ১৬ জুন ৩৫ বছর বয়সে মারা যান।

সম্প্রতি প্রকাশিত মেডিকেল এক্সামিনারের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চেইসের মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল এইডস-সম্পর্কিত জটিলতা। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ধরনের মাদকদ্রব্য ব্যবহারের ইতিহাসও তার মৃত্যুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জন শওয়ালিয়ার বলেন, তার মেয়ের মৃত্যুর খবর তাকে বিস্মিত করেনি। তার ভাষায়, পরিবার অনেক আগেই বুঝতে পেরেছিল যে চেইস ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠজনদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছিলেন এবং ২০১৬ সালে একটি দুর্ঘটনার পর ব্যথানাশক ওষুধের প্রেসক্রিপশন পাওয়ার পর থেকেই তার আসক্তির সমস্যা শুরু হয়।
তিনি বলেন, “যা হওয়ার ছিল, তাই হয়েছে। সে যেভাবে জীবনযাপন করছিল, তাতে এমন পরিণতির আশঙ্কা ছিল।”
শওয়ালিয়ার আরও জানান, চেইসের মরদেহের অবশিষ্টাংশ তার মা ক্যাথির কাছে পাঠানো হয়েছে। সাক্ষাৎকারে শওয়ালিয়ার জানান, চেইসের বয়স প্রায় ছয় বছর হওয়ার পর থেকে তিনি আর ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। যদিও শৈশবে মাঝে মাঝে ফোনে যোগাযোগ হতো, তবুও দীর্ঘ বিচ্ছেদ তাকে আজও কষ্ট দেয়।
তিনি বলেন, “এত বছর তার পাশে থাকতে না পারার একটা শূন্যতা সবসময় অনুভব করেছি।”
জানা গেছে, জীবনের শেষ কয়েক বছর চেইস লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কিড রো এলাকায় আসক্তি ও গৃহহীনতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন। তার ম্যানেজার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা একাধিকবার তাকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
ডেইলি মেইল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চেইসের মা ক্যাথি জানান, ২০১৬ সালে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পর চিকিৎসকের দেওয়া ব্যথানাশক ওষুধ থেকেই তার মেয়ের আসক্তির সূচনা হয়।
তিনি বলেন, “সে ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল এবং ভুল মানুষের সংস্পর্শে চলে গিয়েছিল। আমি কখনও তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিইনি। সে স্বাধীনভাবে থাকতে চেয়েছিল, আর সেই সুযোগে কিছু মানুষ তাকে মাদকের দিকে টেনে নিয়েছিল। সেখান থেকেই সবকিছুর শুরু।”
ডেভেইঘ চেইস খুব অল্প বয়সেই হলিউডে পরিচিতি পান। লিলো অ্যান্ড স্টিচ-এ লিলোর কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি, বিখ্যাত জাপানি অ্যানিমেশন স্পিরিটেড অ্যাওয়ে-এর ইংরেজি সংস্করণে প্রধান চরিত্র চিহিরো ওগিনোর কণ্ঠও তিনি দিয়েছিলেন। এছাড়া দ্য রিং চলচ্চিত্রে তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
চেইসের শেষ চলচ্চিত্র ছিল ২০১৬ সালের থ্রিলার আমেরিকান রোমান্স। এরপর তিনি ধীরে ধীরে অভিনয়জগৎ ও জনসম্মুখ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।
ডেভেইঘ চেইসের মৃত্যু হলিউডে একসময়ের প্রতিশ্রুতিশীল এক শিশু তারকার জীবনের করুণ পরিণতির কথা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তার অভিনয় দর্শকদের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে বেঁচে থাকবে।
