‘চিরসখা’ ধারাবাহিকটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন পরিচালক দিগন্ত সিংহ। ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ম্যাজিক মোমেন্টস-এর সঙ্গে যুক্ত এই অভিজ্ঞ পরিচালক তাঁর সংসার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশাহারা।
গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টস-এর সঙ্গে যুক্ত পরিচালক দিগন্ত সিংহ। প্রযোজক জুটি শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লীনা গঙ্গোপাধ্যায়-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আজকের নয়—সংস্থা প্রতিষ্ঠার আগের সময় থেকেই তাঁদের সঙ্গে কাজ করে আসছেন তিনি। ‘কেয়াপাতার নৌকো’ থেকে ‘গুড্ডি’— একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকের পরিচালনার দায়িত্ব সামলেছেন দিগন্ত।
এই মুহূর্তে তিনি পরিচালনা করছিলেন ‘চিরসখা’ ধারাবাহিকটি। কিন্তু আচমকাই সেই ধারাবাহিক বন্ধের ঘোষণা হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন তিনি। শুধু দিগন্ত নন, ধারাবাহিকের সঙ্গে যুক্ত সম্পাদনা টিম-সহ বহু কর্মীই কার্যত অন্ধকারে।
দিগন্তর কথায়, “২৫ বছরের বেশি সময় ধরে যাঁদের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের এই অবস্থায় ছেড়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আবার এত বছর অন্য কোনও প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কাজ করিনি, তাই নতুন সুযোগও সে ভাবে আসছে না। বেকার বসে রয়েছি। সংসার কী ভাবে চালাব, বুঝতে পারছি না।”
পরিচালকের পারিবারিক দায়িত্বও কম নয়। স্ত্রী, দুই সন্তান এবং বয়স্ক মাকে নিয়ে তাঁর সংসার। এক সন্তান ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ে, অন্য জন কলেজে। দীর্ঘ কর্মজীবনে ধারাবাহিক সাফল্যের ফলে আর্থিক দায়বদ্ধতাও বেড়েছে—ইএমআই, নিত্য খরচ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন তাঁর কাছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
দিগন্ত বলেন, “এত বছর ধরে কাজ করেছি, প্রায় সব ধারাবাহিকই জনপ্রিয় হয়েছে। সেই কারণে খরচও বেড়েছে। এখন হঠাৎ কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভীষণ বিপদে পড়েছি। কোনও দিশা পাচ্ছি না।”
এই সংকটে তিনি শুধু নিজের কথা ভাবছেন না, ভাবছেন তাঁর সহকর্মীদের কথাও। কারণ ধারাবাহিকের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষই আজ কর্মহীন।অন্যদিকে, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছেন প্রযোজক জুটি। ফলে এই মুহূর্তে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও করতে পারছেন না দিগন্ত।
এই পরিস্থিতিতে শিল্পী সংগঠন আর্টিস্ট ফোরাম-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, এত মানুষের জীবিকা জড়িত থাকার পরও এই সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের স্থিতিশীল কর্মজীবনের পর হঠাৎ অনিশ্চয়তায় দিগন্ত সিংহের মতো অভিজ্ঞ পরিচালকের দিশাহারা হয়ে পড়া বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান সংকটকেই সামনে নিয়ে আসছে।
