অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও অডিও ক্লিপ অনুযায়ী, গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের দলের সদস্যদের কাছ থেকে হুমকি পেয়েছেন অভিনেতা আমির খান। লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই আরজু বিষ্ণোই এবং টাইসন বিষ্ণোই নামে আরেক ব্যক্তির শেয়ার করা একটি ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আমির খানকে সতর্ক করা হয়েছে।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও অডিও ক্লিপ অনুযায়ী, গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের দলের সদস্যদের কাছ থেকে হুমকি পেয়েছেন অভিনেতা আমির খান। লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই আরজু বিষ্ণোই এবং টাইসন বিষ্ণোই নামে আরেক ব্যক্তির শেয়ার করা একটি ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আমির খানকে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া আরজু বিষ্ণোইয়ের কণ্ঠস্বর বলে দাবি করা একটি অডিও ক্লিপও অনলাইনে সামনে এসেছে। ওই অডিও ক্লিপ বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

অডিও ক্লিপটিতে আরজু বিষ্ণোই আমির খানের বিরুদ্ধে তথাকথিত "লাভ জিহাদ"-এর প্রচার চালানোর অভিযোগ তোলেন এবং দাবি করেন যে এটি ভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী। তিনি অভিনেতাকে সতর্ক করে বলেন যে, এ ধরনের কার্যকলাপ সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, "আমির খানের মতো যারা আমাদের দেশে 'লাভ জিহাদ'-এর নামে এমন কিছুর প্রচার করছেন যা আমাদের সংস্কৃতির বিরোধী বলে আমরা মনে করি, তাদের সতর্ক করা হচ্ছে যে আমরা এমন কাজ কখনই বরদাস্ত করব না। তাঁকে ও তাঁর সহযোগীদের সতর্ক করা হচ্ছে যে তাঁদের কাজের জন্য শীঘ্রই পরিণাম ভোগ করতে হবে। যেখানেই আমরা তাঁদের পাব, এমন শিক্ষা দেব যা তাঁরা ভবিষ্যতে মনে রাখবে।"

অন্যদিকে, আরজুর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের বিষয়বস্তু ছিল এ রকম, "আমি আরজু বিষ্ণোই এবং টাইসন বিষ্ণোই (লরেন্স বিষ্ণোই গ্রুপ)। আমির খানের মতো যারা আমাদের দেশে 'লাভ জিহাদ'-এর নামে এমন কিছুর প্রচার করছেন যা আমাদের সংস্কৃতির বিরোধী বলে আমরা মনে করি, তাঁদের আমরা সহ্য করব না। এর জবাব শীঘ্রই দেওয়া হবে। আমাদের মতে, এটি সনাতন ধর্ম ও দেশের পরিপন্থী।" পোস্টটিতে আরও বলা হয়, "আমরা আমাদের ভাই-বোন ও সহনাগরিকদের কথা দিচ্ছি যে, যারা এ ধরনের কাজের প্রচার করবে তাঁদের আমাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে জবাব দেওয়া হবে। যারা তারকাখ্যাতির (স্টারডম) আড়ালে এসবের প্রচার চালায়—আমরা তাঁদের অহংকার চূর্ণ করব। একই সঙ্গে, রাজস্থানের শ্রী গঙ্গানগরে এক নিষ্পাপ তরুণীকে নিয়ে ঘটা জঘন্য ঘটনার বিষয়ে প্রশাসন প্রশংসনীয় কাজ করেছে, কিন্তু অভিযোগ রয়েছে যে কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি অভিযুক্তদের কয়েকজনকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন।"

আরজু আরও সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন যে, ওই নিষ্পাপ তরুণীর ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও যারা আইনি পদক্ষেপের হাত থেকে বেঁচে গেছে, তাঁদেরও পরিণাম ভোগ করতে হবে। ওই পোস্টে রাজনৈতিক নেতাদের অভিযুক্তদের রক্ষা করার চেষ্টা বা এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, এমন পদক্ষেপ নিলে অনুরূপ পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে।

‘লাভ জিহাদ’ প্রসঙ্গে আমির খান

এর আগে, ৬১ বছর বয়সি এই অভিনেতা নিজেকে "লাভ জিহাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর" হিসেবে আখ্যায়িত করার অভিযোগ নিয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি জানান যে, তাঁর পরিবার সবসময়ই ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে সম্মান ও সাদরে গ্রহণ করেছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তাঁর পরিবারের কোনও বিয়েতেই ধর্মান্তরের ঘটনা ঘটেনি। চলতি বছরের ৫ জুলাই মুম্বাইয়ের বাসভবনে দীর্ঘদিনের বন্ধু গৌরী স্প্রাটের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই সুপারস্টার 'রেডিফ'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান, তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য হিন্দু ও খ্রিস্টানদের সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ায় (সিভিল ম্যারেজ) বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং এসব সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধর্ম বা ধর্মান্তর কখনই কোনও বিষয় ছিল না।

"লাভ জিহাদ" সংক্রান্ত অভিযোগের জবাবে আমির বলেন, "সত্যিটা হল আমাদের পরিবার অত্যন্ত উদার ও সর্বজনীন মানসিকতার। আমার দুই বোনের বিয়ে হয়েছে হিন্দুদের সঙ্গে। আমার মেয়ের বিয়েও হয়েছে এক হিন্দুর সঙ্গে। আমার কাজিন মনসুর বিয়ে করেছেন এক খ্রিস্টান নারীকে।" তিনি আরও বলেন, "গৌরী, কিরণ কিংবা রিনা—কারও ক্ষেত্রেই ধর্ম পরিবর্তনের কোনও ঘটনা ঘটেনি, কারণ আমাদের বিয়েগুলো হয়েছিল আইনি প্রক্রিয়ায়। গৌরী হিন্দুও নন, তিনি খ্রিস্টান। তাও আবার তিনি খুব একটা ধর্মানুরাগী খ্রিস্টান নন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবনটা যেন আরও বেশি কৌতুকপূর্ণ হয়ে উঠছে।"