হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করে মাথায় সিঁদুর পরে এবার তৃণমূল শিবিরেই আক্রমণের শিকার হলেন নুসরত জাহান। সিঁদুর ও চূড়া পরার জন্য নুসরত বসিরহাটের সাংসদের বিরুদ্ধে রীতিমতো ফতোয়া জারি করেন ইমাম। হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করে সিঁদুর পরা ইসলাম বিরোধী বলেও দাবি করেন তিনি। এর উত্তরে নুসরত জানিয়ে দেন তিনি এখনও মুসলিমই আছেন। কিন্তু তিনি সব ধর্মকেই সম্মান করেন। 

নুসরতের উপরে ইমামের ফতোয়া জারির পরে বিজেপি শিবির থেকে অনেকে তাঁর সমর্থনে কথা বলেছেন। রায়গঞ্জের সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরী বলেছেন, এটা পাকিস্তান নয়। এখানে কারও সাংবিধানিক অধিকারের উপরে হস্তক্ষেপ করা যাবে না। 

বিজেপির আরও দুই সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় ও বাবুল সুপ্রিয়ও নুসরত জাহানের হয়ে কথা বলেছেন। লকেট বলেছেন, সিঁদুর পরবেন নাকি শাঁখা পরবেন, শপথ গ্রহণে কী পোশাক পরবেন সেটাও কি জিজ্ঞাসা করে পরতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর নুসরতের পাশে দাঁড়ানো উচিত। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি ঠিক না। 

কিন্তু এখনও পর্যন্ত ওই বিষয়ে নুসরতের পক্ষ নিয়ে কেউ কথা বলেননি তৃণমূল শিবির থেকে। বরং তৃণমূলেপ 'মৌলবাদী' নেতা ইদ্রিশ আলি বাক্য়বাণে নুসরতকে বিঁধলেন। তিনি বলেছেন, আমি নিজে কিছু বলব না। তবে অনেকেই অবাক হচ্ছেন। ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করছেন। শুধু মুসলিম নয়, হিন্দুরাও অবাক হচ্ছেন। নুসরত নিজেই ঠিক করুক, ও মুসলিম নাকি জৈন। 


এমনকী, একক সংবাদমাধ্যমের কাছে, নুসরতের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথাও তুলেছেন বসিরহাটের প্রাক্তন সাংসদ ইদ্রিশ আলি। আমি বলছি না। তবে অনেকেই বলাবলি করছেন নুসরত কি এবার তবে স্বামী নিখিল জৈনের কথায় বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। এই প্রসঙ্গ রীতিমতো রাজনৈতিক মহলে ঝড় তুলেছে। 

এমনকী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণের বাহবা দেওয়ায়ও নুসরতকে এক হাত নিয়েছেন ইদ্রিশ। তিনি বলেছেন, আমাদের মূল শত্রু হল বিজেপি। আর নুসরত প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের প্রশংসা করছেন। এসবের জন্যই অনেকে বলাবলি করছেন নুসরত কি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন।  

ইদ্রিশ নুসরত সম্পর্কে আরও বলেন, এটা সংস্কৃতি নয়। বিজেপি সাংসদরাও এসব করেননি। প্রণাম করা, শ্রদ্ধা জানানো এগুলি নিজের ব্য়ক্তিগত ব্যপার। কিন্তু সেটা তো সব জায়গায় হয় না।