Rituparno Ghosh Films: সুযোগ পেলেই দেখে নিন ঋতুপর্ণ সেনগুপ্তের এই সেরা ছবিগুলো! সিনেপ্রেমীদের জন্য থাকল বাছাই করা তালিকা

বাংলা চলচ্চিত্রে যে ক’জন নির্মাতা নিজের স্বাক্ষর রেখে গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ঋতুপর্ণ ঘোষ একেবারেই আলাদা। সম্পর্ক, একাকিত্ব, নারীমন, মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন—সবকিছুই তাঁর ছবিতে উঠে এসেছে নিখুঁত মানবিকতায়। সাহিত্যধর্মী সংলাপ, সংবেদনশীল ক্যামেরা আর শক্তিশালী অভিনয়ের মেলবন্ধনে তিনি তৈরি করেছেন বহু স্মরণীয় সিনেমা। ঋতুপর্ণ ঘোষের সেরা ছবিগুলির তালিকা ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা রইল। 

১) উনিশে এপ্রিল (1994) এই ছবির মাধ্যমেই পরিচালক হিসেবে ঋতুপর্ণ ঘোষের শক্ত অবস্থান তৈরি হয়। এক মা ও মেয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন, শিল্পীসত্তা আর পারিবারিক দূরত্বের গল্প অত্যন্ত বাস্তবভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অপর্ণা সেনের অভিনয় ছবিটিকে আলাদা উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। 

২) দহন (1997) সমাজের ভণ্ডামি ও নারীর প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ছবি আজও সমান প্রাসঙ্গিক। এক যৌন হেনস্তার ঘটনার পর সমাজ ও ব্যক্তিমানসের দ্বন্দ্ব কীভাবে বদলে যায়, সেটাই এই ছবির মূল বিষয়। ইন্দ্রাণী হালদার ও ঋতুপর্ণ ঘোষের অভিনয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

 ৩) বাড়িওয়ালি (2000) এক নিঃসঙ্গ নারীর জীবনে হঠাৎ কিছু মানুষের আগমন ও তার মানসিক পরিবর্তনের গল্প। কিরণ খেরের অসাধারণ অভিনয় ছবিটিকে অনন্য করে তুলেছে। আবেগ, একাকিত্ব ও আত্মসম্মানের মিশেল রয়েছে এই ছবিতে। 

৪) চিত্রাঙ্গদা: দ্য ক্রাউনিং উইশ (2012) এই ছবি ঋতুপর্ণ ঘোষের অন্যতম সাহসী কাজ। পরিচয়, লিঙ্গবোধ ও সমাজের চোখে মানুষ হয়ে ওঠার লড়াইকে কেন্দ্র করে তৈরি। রবীন্দ্রনাথের ‘চিত্রাঙ্গদা’ অবলম্বনে আধুনিক ব্যাখ্যা দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলে।

 ৫) রেইনকোট (2004) অজয় দেবগন ও ঐশ্বর্যা রায়ের অভিনয়ে তৈরি এই ছবি মূলত দু’জন প্রাক্তন প্রেমিক-প্রেমিকার এক দিনের সাক্ষাতের গল্প। নীরবতা, অসম্পূর্ণতা আর চাপা কষ্টের মধ্য দিয়ে সম্পর্কের বাস্তব রূপ তুলে ধরা হয়েছে। 

৬) চোখের বালি (2003) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি এই ছবি ঋতুপর্ণ ঘোষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ। বিধবা বিনোদিনীর মানসিক টানাপোড়েন, প্রেম ও সমাজের নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে দেখানো হয়েছে। ঐশ্বর্যা রায়ের অভিনয় বিশেষ প্রশংসিত। 

৭) অন্তরমহল (2005) জমিদারবাড়ির অন্দরমহলের ক্ষমতা, নারীজীবন ও পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার গল্প নিয়ে তৈরি এই ছবি। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তৈরি হলেও মানুষের অনুভূতির দিকটাই এখানে মুখ্য। 

৮) আবহমান (2009) এক চলচ্চিত্র পরিচালকের জীবন ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন ঘিরে তৈরি এই ছবি। শিল্প ও সংসারের দ্বন্দ্ব এখানে গভীরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটি জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছিল। 

৯) নৌকাডুবি (2011) রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি এই ছবিতে ভুল বিয়ে, প্রেম ও সামাজিক বাধার গল্প রয়েছে। সম্পর্কের জটিলতা ঋতুপর্ণ ঘোষের নিজস্ব ভঙ্গিতে ফুটে উঠেছে। 

১০) সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই (2008) মিডিয়া, সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত জীবনের ভাঙাগড়া নিয়ে তৈরি এই ছবি আধুনিক সমাজের দ্বন্দ্বকে তুলে ধরে। মনস্তাত্ত্বিক দিকটি এখানে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।