একই বাড়িতে থাকলেও ছেলে-বৌমার ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করেন না নীতু। তিনি জানিয়েছেন, বিবাহিত সন্তানদের নিজেদের মতো থাকতে দেওয়া উচিত….
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে মুম্বইয়ের বান্দ্রার পালি হিলে নিজেদের স্বপ্নের বাড়িতে উঠেছেন বলিউড তারকা দম্পতি রণবীর কপূর ও আলিয়া ভাট। সাততলা সমুদ্রমুখী এই বিলাসবহুল বাড়ির মূল্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বাড়িটির নানা ভিডিও ও ছবি। অনেকের দাবি, দামের নিরিখে এটি নাকি ভারতের তারকাদের মধ্যে অন্যতম ব্যয়বহুল আবাস, যা নাকি শাহরুখ খান-এর বিখ্যাত ‘মন্নত’-কেও টেক্কা দিতে পারে।

সবুজে ঘেরা এই প্রাসাদোপম বাড়ির চতুর্থ তলায় থাকেন নীতু কপূর। একই ছাদের তলায় ছেলে, বৌমা ও নাতনি রাহাকে নিয়ে থাকলেও তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে অযাচিত হস্তক্ষেপ করতে নারাজ তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নীতু নিজেই জানিয়েছেন, পরিবারের মধ্যে দূরত্ব নয়, বরং ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মানই সম্পর্ককে সুস্থ রাখে। নীতুর কথায়, “আমি ওদের গোপনীয়তাকে সম্মান করি। যখন তখন ওদের ঘরে ঢুকে পড়ি না। রাহা সময় পেলেই আমার কাছে আসে। আমি নিজে থেকে সবসময় যাই না। ছেলেমেয়েদের বিয়ে হয়ে গেলে তাদের নিজেদের মতো ছেড়ে দিতে হয়।”
তিনি আরও জানান, মেয়ে ঋদ্ধিমা কপূর সাহনি-র বিয়ের সময়ও একই কথা বলেছিলেন স্বামী ঋষি কপূর-কে। যদিও ঋষি কপূর মেয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। নীতুর মতে, “ঋষিজি খুব জেদি ছিলেন। কিন্তু আমি ছেলে ও বৌমার সংসারে অযথা ঢুকে পড়তে চাই না।”
বর্তমান সময়ে যৌথ পরিবারের ধারণা অনেকটাই বদলে গেলেও, রণবীর-আলিয়ার সংসারে যেন আধুনিকতা ও পারিবারিক মূল্যবোধ পাশাপাশি চলেছে। একই বাড়িতে থেকেও প্রত্যেকের নিজস্ব পরিসর বজায় রাখার এই ভাবনা অনেকের কাছেই উদাহরণ হয়ে উঠছে।
উল্লেখ্য, বান্দ্রার পালি হিলের এই বাড়িটি একসময় ছিল কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ কপূর ও তাঁর স্ত্রী কৃষ্ণা রাজ কপূরের বাসভবন। পরে আশির দশকে সেই সম্পত্তি ঋষি কপূর ও নীতু কপূর-এর নামে লিখে দেওয়া হয়। বর্তমানে উত্তরাধিকার সূত্রে সেই ঐতিহ্যবাহী বাড়ির মালিক হয়েছেন রণবীর ও আলিয়া।
