অভিনেত্রী পার্নো মিত্র প্রযোজনার জগতে পা রাখলেন শ্রীময়ী চক্রবর্তী পরিচালিত 'স্পিরিট অফ দ্য ওয়াইল্ড লাইফ' ডকু-ছবির হাত ধরে।

বাংলা চলচ্চিত্র জগতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করলেন পার্নো মিত্র। অভিনেত্রী হিসেবে নিজের পরিচিতি আগেই তৈরি করেছিলেন, তবে এবার প্রযোজনার জগতে পা রেখে তিনি আরও এক ধাপ এগোলেন। আর এই যাত্রার শুরুটাই বেশ তাৎপর্যপূর্ণ—নারীর সংগ্রাম, সাহস এবং স্বপ্নকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি ডকুমেন্টারি ছোবির হাত ধরে।

পরিচালক শ্রীময়ী চক্রবর্তী-র তৈরি ‘স্পিরিট অফ দ্য ওয়াইল্ড লাইফ’ ডকু-ছবিটি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছতে চলেছে। চলতি মাসেই ছবিটি যাবে কান চলচ্চিত্র উৎসব-এ, যা নিঃসন্দেহে বড় সম্মানের বিষয়। ছবিটির কার্যনির্বাহী প্রযোজকের দায়িত্বে রয়েছেন পার্নো মিত্র নিজে।

এই ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে দুই সাঁওতাল নারী—অঙ্কিতা ও বিনুকে ঘিরে। তাঁদের জীবিকা মহুয়া তৈরি ও বিক্রি করা। কিন্তু জীবনের বাস্তবতার বাইরেও রয়েছে তাঁদের স্বপ্ন, লড়াই এবং আত্মপরিচয়ের খোঁজ। বিশেষ করে তাঁদের মধ্যে একজনের পুরুষ হিসেবে বাঁচার আকাঙ্ক্ষা এই গল্পকে আরও গভীরতা দিয়েছে। সমাজের প্রান্তিক মানুষের এই সাহসী জীবনযুদ্ধই ছবির মূল উপজীব্য।

পার্নোর এই প্রযোজনায় আসার পেছনেও রয়েছে অনুপ্রেরণার গল্প। শ্রীময়ীর ব্যক্তিগত সংগ্রাম এবং তাঁর সৃষ্টিশীল কাজ পার্নোকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। তাঁর কথায়, ভাল কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে সব সময় প্রস্তুত তিনি, আর এই ছবির মাধ্যমে সেই ইচ্ছার বাস্তবায়ন হল।

ছবিটি নির্মিত হয়েছে ট্যাবারনাকল স্ট্রিট ফিল্মস এবং আদ্যা ফিল্মসের ব্যানারে। প্রযোজনায় রয়েছেন শ্রীময়ী চক্রবর্তী ও ওম সিংহ। সহ-কার্যনির্বাহী প্রযোজক হিসেবে আছেন রুশা বসু। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরের প্রযোজক যেমন রাধিকা পিরামল এবং নীরজ চুড়ির উপস্থিতিও এই প্রকল্পকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

পার্নোর এই নতুন পদক্ষেপে শুভেচ্ছার বন্যা বইয়ে দিয়েছেন টলিউডের বহু পরিচিত মুখ—শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, মিমি চক্রবর্তী, চিত্রাঙ্গদা, শতরূপা প্রমুখ।

বর্তমানে বহু অভিনেতাই প্রযোজনায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন। সেই প্রবণতার সঙ্গেই তাল মিলিয়ে পার্নোও জানালেন, ভবিষ্যতে বড় ছবির প্রযোজনাতেও তিনি আগ্রহী। তাঁর মতে, জীবন একটাই—তাই যতটা সম্ভব ভাল কাজ করে যাওয়াই লক্ষ্য।

অভিনয়, প্রযোজনা এবং রাজনীতি—তিনটি ভিন্ন ক্ষেত্রকে একসঙ্গে সামলানো সহজ নয়। তবে পার্নো মিত্র নিজেকে একজন দক্ষ ‘মাল্টিটাস্কার’ বলেই মনে করেন। ছোটবেলা থেকেই দায়িত্ব সামলানোর অভ্যাস তাঁকে আজকের এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, ‘স্পিরিট অফ দ্য ওয়াইল্ড লাইফ’ শুধু একটি ডকুমেন্টারি নয়—এটি নারীর সাহস, স্বপ্ন এবং মানবিকতার এক অনন্য উদযাপন। আর সেই উদযাপনের অংশ হয়ে পার্নো মিত্র তাঁর নতুন যাত্রার সূচনা করলেন দৃঢ় পদক্ষেপে।