পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠন হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী প্রজন্মের জন্য উন্নয়ন চেয়েছেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মতে, ভোটে দেওয়া প্রতিশ্রুতির পূরণ হওয়া উচিত। 

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটে ঐতিহাসিক জয়ের পর বিজেপি সরকার গড়েছে। এই পালাবদল নিয়ে মঙ্গলবার মুখ খুললেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। রাজ্যের নতুন সরকার এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, "এখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক প্রতিভা রয়েছে। আমি চাই নতুন প্রজন্মের জন্য উন্নয়ন হোক, ব্যবসা বাড়ুক। আমরা অনেক আশা নিয়ে ভোট দিই, সেই আশা পূরণ হওয়া উচিত।"

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বিজেপি সরকার নিয়ে প্রসেনজিতের প্রতিক্রিয়া

প্রসেনজিতের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন রাজ্যে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁর সঙ্গেই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন বিজেপি নেতা অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক। যদিও প্রসেনজিৎ রাজনীতি থেকে নিজেকে কিছুটা দূরেই রাখেন। তবে এবার বিজেপি সরকারের কাছে তাঁর প্রত্যাশা জানিয়েছেন।

কলকাতায় আয়োজিত এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে চাঁদের হাট বসেছিল। হাজির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এবং উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ইতিহাস তৈরি করেছে। মোট ২০৭টি আসন জিতে ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়েছে তারা। অন্যদিকে, তৃণমূল পেয়েছে মাত্র ৮০টি আসন। শুভেন্দু অধিকারী শুধু নন্দীগ্রামই নয়, হাই-প্রোফাইল ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও জিতে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এই নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথম দুই দফায় ভোটের হার ৯২ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, যা স্বাধীনতার পর রাজ্যের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ।