অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুর পর টলিউডে নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এই আবহে, প্রতিবাদ জানানোর পদ্ধতি নিয়ে অভিনেতা জিতু কমল ও অভিনেত্রী পায়েল দে-র মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে, যা ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনকে সামনে এনেছে।

টলিউডে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আকস্মিক মৃত্যুর পর যে বিতর্ক, ক্ষোভ ও আন্দোলনের আবহ তৈরি হয়েছিল, তা এখনও পুরোপুরি স্তিমিত হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে নতুন করে সামনে আসছে মতবিরোধ। এবার সেই আবহেই প্রকাশ্যে এল অভিনেতা জিতু কমল ও অভিনেত্রী পায়েল দে-র মধ্যে টানাপোড়েন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

গত ২৯ মার্চ ওড়িশার তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ৪৩ বছর বয়সী রাহুলের। এই ঘটনায় শুটিং সেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শিল্পী মহলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, শুরু হয় প্রতিবাদ।

‘জাস্টিস ফর রাহুল’-এর দাবিতে টলিপাড়ার শিল্পী ও কলাকুশলীরা রাস্তায় নামেন। টেকনিশিয়ান স্টুডিও-কে কেন্দ্র করে মিছিল, কর্মবিরতি—সব মিলিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে ইন্ডাস্ট্রি।

এই আন্দোলনের মাঝেই জিতু কমল নিজের মতো করে প্রতিবাদ জানান। তিনি মূল মিছিলে যোগ না দিয়ে স্টুডিও প্রাঙ্গণে গাছতলায় বসে রাহুলের ছবিতে মালা দেন।

শুধু তাই নয়, নিজের ছবিতেও মালা দিয়ে এক প্রতীকী বার্তা দেন—যে পরিস্থিতিতে রাহুলের মৃত্যু হয়েছে, তা যে কোনও শিল্পীর ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে। তাঁর বক্তব্য ছিল, শুটিং ফ্লোরে নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি আগে থেকেই তিনি তুলে ধরেছিলেন।

ঘটনার মোড় ঘোরে যখন পায়েল দে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। নাম না করলেও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল জিতুর দিকেই।

পায়েলের অভিযোগ, প্রতিবাদের পর গাছতলায় রাখা রাহুলের ছবিটি অবহেলায় পড়ে ছিল। তাঁর দাবি অনুযায়ী, জিতু নিজের ছবিটি সরিয়ে নিলেও রাহুলের ছবিটি সেখানেই রেখে যান।

পরে অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত নাকি সেই ছবিটি তুলে নিয়ে ফোরামের অফিসে সযত্নে রেখে আসেন। এই অভিযোগের জবাবে জিতু কমল সরাসরি বিতর্কে জড়াননি। তিনি সংযতভাবে বলেন, পায়েল একজন শিক্ষিত মানুষ এবং তাঁর নিজের লড়াই সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত।

তিনি আরও জানান, একসঙ্গে কাজ করার সময়ে তাঁদের মধ্যে কোনও সমস্যা হয়নি। বর্তমানে তিনি নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত এবং হঠাৎ এই প্রসঙ্গ কেন উঠল, তা তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়।

রাহুলের মৃত্যু ঘিরে যে বড় প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে—শুটিং সেটে নিরাপত্তা, প্রোডাকশন হাউসের দায়বদ্ধতা এবং শিল্পীদের সুরক্ষা—সেগুলোর সমাধান এখনও অধরা।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই সহকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনকেও সামনে এনে দিয়েছে।