২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে। এই নির্বাচনে ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী বিজেপির কৌস্তভ বাগচীর কাছে পরাজিত হন এবং ফল ঘোষণার পর জনতার ক্ষোভের শিকার হন বলে অভিযোগ। 

৪ মে, সোমবার প্রকাশিত হল ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। সকাল থেকেই ফল ঘোষণার অপেক্ষায় ছিল গোটা রাজ্য। সময় যত গড়িয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্র—বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিজেপি, পিছিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এই আবহেই ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে দ্বিতীয়বার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন পরিচালক-প্রযোজক রাজ চক্রবর্তী। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন কৌস্তভ বাগচী। গণনা যত এগিয়েছে, ততই পরিষ্কার হয়েছে যে, কৌস্তভ বাগচীর কাছে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ছেন রাজ।

ফলাফল স্পষ্ট হতেই গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় রাজ চক্রবর্তীকে। সেই সময় সেখানে উপস্থিত জনতার একাংশ ‘চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করে বলে অভিযোগ। এমনকি তাঁর দিকে কাদা ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। যদিও এই ঘটনায় স্পষ্টভাবে বিরক্তি প্রকাশ করলেও, প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নেরও জবাব দেননি রাজ।

অন্যদিকে, এই জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের এক ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে চলেছেন কৌস্তভ বাগচী। জানা যায়, তিনি শপথ নিয়েছিলেন—ভোটে জয়ী না হওয়া পর্যন্ত মাথায় চুল রাখবেন না। অবশেষে ব্যারাকপুরে জয় পাওয়ার পর সেই তিন বছরের পণ ভাঙার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, এবার থেকে আবার স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরবেন।

রাজ্যজুড়ে ফলাফলের চিত্রও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, প্রায় ১৯৭টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে প্রায় ৯৭টি আসনে। ফলে রাজ্যে ‘গেরুয়া ঝড়’ যে বাস্তব, তা স্পষ্ট।

এখন প্রশ্ন—বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? পাশাপাশি, এই হারের পর রাজ চক্রবর্তী রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে, সেটাও দেখার। তিনি কি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন, নাকি তৃণমূলের সঙ্গে থেকে নতুন করে লড়াই শুরু করবেন—তার উত্তর মিলবে সময়ের সঙ্গেই।