পাকিস্তানের পেশোয়ারে অবস্থিত প্রয়াত অভিনেতা রাজ কাপুরের ঐতিহাসিক প্রাসাদের একটি অংশ ধসে পড়েছে। জানা গেছে, একটানা ভারী বৃষ্টি এবং শুক্রবার রাতে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে এই ক্ষতি হয়েছে। এই খবরটি ভক্তদের জন্য অত্যন্ত মর্মান্তিক, কিন্তু রাজ কাপুরের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

পাকিস্তানের পেশোয়ারে অবস্থিত প্রয়াত অভিনেতা রাজ কাপুরের ঐতিহাসিক প্রাসাদের একটি অংশ ধসে পড়েছে। জানা গেছে, একটানা ভারী বৃষ্টি এবং শুক্রবার রাতে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে এই ক্ষতি হয়েছে। এই খবরটি ভক্তদের জন্য অত্যন্ত মর্মান্তিক, কিন্তু রাজ কাপুরের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। প্রায় ১০০ বছরের পুরনো এই প্রাসাদটি আগে থেকেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। একটানা বৃষ্টি এর দেওয়ালগুলোকে দুর্বল করে দিয়েছিল এবং ভূমিকম্প পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

খাইবার পাখতুনখোয়া হেরিটেজ কাউন্সিলের সচিব শাকিল ওয়াহিদুল্লাহ জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর প্রাসাদটির দেওয়ালের একটি অংশ ধসে পড়ায় পুরো ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে, প্রাসাদটির বাকি অংশ হুমকির মুখে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এই ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এবং সরকারকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

কাপুর পরিবারের ঐতিহাসিক এই অট্টালিকাটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি, যা রাজ কাপুরের পিতামহ দেওয়ান বাশ্বেশ্বরনাথ ১৯১৮ থেকে ১৯২২ সালের মধ্যে নির্মাণ করেছিলেন। পৃথ্বীরাজ কাপুর এখানেই তাঁর অভিনয় জীবন শুরু করেন। রাজ কাপুর এবং তাঁর কাকা ত্রিলোক কাপুরও এই বাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেন। বলা হয়, এই অট্টালিকাটিতে প্রায় ৪০টি ঘর রয়েছে।

১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভাজনের পর কাপুর পরিবার এই অট্টালিকাটি ছেড়ে মুম্বাই চলে যায়। তারপর থেকে ভবনটি ধীরে ধীরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। তবে, ১৯৯০-এর দশকে ঋষি কাপুর এবং রণধীর কাপুর এই স্থানটি পরিদর্শন করেছিলেন। পরিকল্পনা ছিল একটি জাদুঘর নির্মাণের। ২০১৬ সালে পাকিস্তান সরকার এই অট্টালিকাটিকে জাতীয় ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করে। পরিকল্পনা ছিল এটিকে সংস্কার করে একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত করার। তবে, এখন এর একটি অংশ ধসে পড়ায় পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের কাজ কখন এবং কীভাবে এগোবে তা স্পষ্ট নয়। রাজ কাপুরের অট্টালিকাটি শুধু একটি ভবন নয়, বরং ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসের এক অপরিহার্য অংশ। তাই এর ক্ষতিকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর এক বিরাট আঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।