টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখ সায়ন্তনী ঘোষ সম্প্রতি বিনোদন জগতের এক অন্ধকার দিক তুলে ধরেছেন। 

টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী সায়ন্তনী ঘোষ সম্প্রতি তাঁর কেরিয়ারের এমন এক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, যা বিনোদন জগতে গায়ের রঙ নিয়ে ভেদাভেদ এবং স্টিরিওটাইপিং-এর বিতর্ককে আবার উস্কে দিয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সায়ন্তনী খোলসা করেন যে, শুধুমাত্র শ্যামলা গায়ের রঙের জন্য তাঁকে অনেক প্রোজেক্ট থেকে বাদ পড়তে হয়েছিল। 'নাগিন', 'তেরা ইয়ার হুঁ ম্যায়', 'জগদ্ধাত্রী'-র মতো জনপ্রিয় শো-তে কাজ করা সায়ন্তনী জানান, ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায়ই অভিনেতাদের ট্যালেন্টের বদলে তাঁদের লুকস বা গায়ের রঙের ভিত্তিতে বিচার করা হয়। তবে তিনি এও বলেন যে, এই সমস্ত ভুল ধারণা ভেঙে দিতে তাঁর বেশ ভালোই লাগে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সাক্ষাৎকারে একটি ঘটনার কথা মনে করে সায়ন্তনী জানান, একবার একটি প্রোজেক্টের জন্য তাঁকে ফাইনাল করে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে তাঁকে রিপ্লেস করা হয়। কারণটা ছিল শুধু একটাই—শো-এর নির্মাতারা ওই চরিত্রের জন্য একজন ফর্সা অভিনেত্রী খুঁজছিলেন, কারণ চরিত্রটি ছিল একজন পাঞ্জাবি মহিলার। অভিনেত্রীর কথায়, এই অভিজ্ঞতাটা তাঁর জন্য খুব হতাশাজনক ছিল, কিন্তু তিনি এটাকে কখনও নিজের দুর্বলতা হতে দেননি। তিনি সবসময় নিজের অভিনয় আর পরিশ্রমের ওপর ভরসা রেখেছেন।

সায়ন্তনীর মতে, টিভি এবং বিনোদন জগতে প্রায়শই শ্যামলা অভিনেত্রীদের বাঙালি বা দক্ষিণ ভারতীয় চরিত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। মানুষের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হয়ে গিয়েছে যে, কিছু বিশেষ অঞ্চলের চরিত্রের জন্যই শুধু শ্যামলা গায়ের রঙ মানানসই। তিনি বলেন, এই চিন্তাভাবনা বদলানো দরকার, কারণ অভিনয়ের সম্পর্ক শিল্পীর প্রতিভার সঙ্গে, তাঁর গায়ের রঙের সঙ্গে নয়।

সায়ন্তনী জানান, তাঁর কেরিয়ারে এমন সুযোগও এসেছে যখন তিনি এই ধারণাকে পুরোপুরি ভুল প্রমাণ করেছেন। 'তেরা ইয়ার হুঁ ম্যায়' টিভি শো-তে তিনি একজন সর্দারনির চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এই ভূমিকাটা তাঁর জন্য খুব স্পেশাল ছিল, কারণ সাধারণত এই ধরনের চরিত্রের জন্য ফর্সা অভিনেত্রীদেরই প্রাধান্য দেওয়া হয়। তিনি জানান, শো-এর নির্মাতারা তাঁকে বলেছিলেন যে, তাঁদের প্রথম দরকার একজন ভালো অভিনেত্রী। চরিত্রের লুক, ভাষা এবং বাকি প্রস্তুতি টিম সামলে নেবে। এই চিন্তাভাবনাটাই তাঁকে খুব অনুপ্রেরণা দিয়েছিল।

সায়ন্তনীর কথায়, শো সম্প্রচারের পর তিনি দর্শকদের থেকে দারুণ পজিটিভ প্রতিক্রিয়া পান। অনেকেই তাঁকে বলেন যে, তিনি বাঙালি এটা আগে থেকে না জানলে, তাঁদের বিশ্বাসই হয়ে যেত যে তিনি সত্যিই একজন পাঞ্জাবি। তিনি জানান, শো-এর ডিরেক্টর নিজে পাঞ্জাবি ছিলেন এবং তিনি চরিত্রের ভাষা, উচ্চারণ এবং আচরণ বুঝতে তাঁকে খুব সাহায্য করেছিলেন। এই কারণেই তিনি নিজের চরিত্রটি সততার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছিলেন। সায়ন্তনী ঘোষ বিশ্বাস করেন যে, অভিনেতাদের পরিচয় হওয়া উচিত তাঁদের অভিনয় এবং পরিশ্রম দিয়ে, তাঁদের চেহারা বা গায়ের রঙ দিয়ে নয়। নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সুযোগ পেলে যেকোনো শিল্পীই যেকোনো চরিত্রকে দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলতে পারেন।