প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক দাবি করেন মৌমিতা পণ্ডিত। এরপরেই মৌমিতাকে একহাত নিয়ে ফেসবুকে খোলা চিঠি লেখেন রাহুলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী।
রাহুল অরুণোদয় মারা গিয়েছেন প্রায় ৫ মাস পেরিয়েছে। তারপরেও কাটে নিয়ে তাঁকে নিয়ে চর্চার রেশ। দিন কয়েক আগে তাঁর সঙ্গে রাহুলের সম্পর্ক রয়েছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেন মৌমিতা পণ্ডিত। একটি পুরান সিসিটিভি ফুটেজও শেয়ার করে প্রমাণের জন্য। এরপরই নেটপাড়ায় রাহুল ও তাঁর সম্পর্ক নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়ে যায়। এবার মৌমিতা পণ্ডিতকে ফেসবুকে এক হাত নিলে রাহুলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দিদি অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী।
মৌমিতা জানিয়েছেলেন তাঁর ও রাহুলের সম্পর্ক স্বীকার না করলে তা রাহুলকে অপমান করা হয়। তাই মৃতুর পরে তাঁর সঙ্গে রাহুলের সম্পর্ক নিয়ে তিনি মুখ খোলেন। এ ছাড়াও তিনি বলেন তালসারীতে শ্যুটিংয়ে যাওয়ার ঠিক আগে তাঁর সঙ্গেই কথা বলছিলেন অরুণোদয়। এবার এই সমস্ত বক্তব্যকে তুলেধরে মৌমিতার উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী,
" অরুণোদয় মরিয়াও প্রমাণ করিতে পারিল না যে সে মরিয়া গিয়াছে !!
প্রিয় মৌমিতা পণ্ডিত ,
কিছু সস্তার ক্লিক বেইট পিপাসু অনলাইন পোর্টালে দেখলাম বাবিনের মৃত্যুর সাড়ে চার মাস পর তুমি হঠাৎই সকলকে জানিয়েছ তোমার সঙ্গে নাকি বাবিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
সত্য মিথ্যা আমার জানা নেই, জানার আগ্রহ ও নেই।
প্রেম খুবই ব্যক্তিগত ব্যপার। তা ব্যক্তিগত থাকাই বাঞ্ছনীয় ছিল, বিশেষ করে দুজনের একজন যখন এর পক্ষে বা বিপক্ষে বলার জায়গাতেই আর নেই এবং তার এক প্রায়-বয়ঃসন্ধিক্ষণে পৌঁছনো সন্তান রয়েছে যে সারাজীবন তার বাবাকে আর পাবে না এর সত্যতা যাচাই করার জন্য, শুধু মুখ বুঁজে তাকে অপমান সহ্য করে যেতে হবে তোমার এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য। তার মা, দাদা, কাছের বন্ধু আত্মীয়রাও বেঁচে রয়েছেন তাঁদের আদরের বাবিনকে হারানোর শোক বয়ে নিয়ে, এবং তার একদা বিবাহিত স্ত্রী ও আছেন যিনি তোমার থেকে বয়সে সম্ভবত ছোট কিন্তু অভিনয় ক্ষমতা ও পেশাগত সাফল্যে কয়েক কোটি মাইল এগিয়ে।
বাবিন যদি সত্যিই তোমাকে ভালোবেসে থাকে, তাহলে তো তার আশপাশের এই মানুষগুলোর কথা তোমার ভাবা উচিৎ ছিল মৌমিতা, বাবিনের সম্মানের কথা ভাবা উচিৎ ছিল। সম্মান ছাড়া 'ভালোবাসা' তো হয় না ভাই, 'ভালোবাসার ভান' হয়।
যে 'প্রেম' তোমার 'ছিল' বলে দাবী করছো, তা যদি সত্যি থেকে থাকে, তাহলে তার ভিডিও পোস্ট করে এত বড় অপমান টা না করলেই পারতে।
খুব আঘাত পেলাম। খুব রাগ হলো, কিছুটা ঘৃণাও।
ভালোবাসা বড় পবিত্র জিনিস, তাকে আগলে রাখতে হয়, এইভাবে বাজারে বিক্রী করে দিতে নেই।
যদি সত্যিই তাকে ভালোবেসে থাকো, তাহলে তা ফেসবুকে প্রমাণ করার চেষ্টা না করে,
রোজ গিয়ে থানায় জিজ্ঞাসা করতে পারতে -- তার মৃত্যুটা ঠিক কীভাবে হলো? কার কার গাফিলতিতে হলো? সেসবের তদন্ত কবে হবে ?...
উড়িষ্যার তালসারি থানায় গিয়ে ধর্ণা দিতে পারতে, জানতে চাইতে পারতে -- তার মৃত্যুর তদন্ত হতে এত সময় লাগছে কেন ?...
রাস্তায় প্লাকার্ড নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারতে -- "I want justice" লিখে....
আমাদের দেশে বিচার ব্যবস্থা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও খরচসাপেক্ষ। প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখা করে জানতে চাইতে পারতে -- ওর উকিলের খরচ কেমন করে জোগাড় করছে মেয়েটা ? ...
বুম্বা দা, শান্তি দা, যীশু, দেবদূত, বিদীপ্তা দি রা এক অসম লড়াই চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন আপ্রাণ, ওঁদের পাশে থাকতে পারতে, বলতে পারতে -- "তোমরা হাল ছেড়ো না, কেউ না থাক আমি আছি আমার 'প্রেম' এর জন্য, তোমরা হার মেনো না, সময় লাগবে কিন্তু জিত আমাদের হবেই"....
তাহলে বুঝতাম তোমার 'প্রেম' এ দম আছে,
তাহলে বুঝতাম তুমি সত্যি বলছো, তুমি 'ভালোবেসেছিলে' বাবিন কে !!!! বড় হও মৌমিতা, ভাল বই পড়. গান শোনো, তুমি নিশ্চই কাজ পাবে"
