স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ঘিরে আচমকাই নতুন মোড়। অভিযোগকারী রূপটান শিল্পী ফেসবুক লাইভে দাবি করেছেন, স্বরূপ বিশ্বাস তাঁর শ্লীলতাহানি করেননি।
গত জুন মাসে শ্লীলতাহানি ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই তথা প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন এক মহিলা রূপটান শিল্পী। ফেডারেশনের শর্ত না মানায় তাঁকে দীর্ঘদিন কাজ করতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছিলেন ওই মহিলা। তবে শুক্রবার রাতে আচমকাই বদলে গেল পরিস্থিতি। ফেসবুক লাইভে এসে রূপটান শিল্পী দাবি করলেন, “স্বরূপ বিশ্বাস আমার শ্লীলতাহানি করেননি।” একইসঙ্গে মামলা প্রত্যাহারের কথাও জানান তিনি।
শুক্রবার রাতে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় ওই মহিলা দাবি করেন, কিছু মানুষের কথায় তিনি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর দাবি, স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তা তিনি নিজে করেননি। রূপটান শিল্পীর কথায়, “কিছু মানুষ মিথ্যে অভিযোগ দিতে বলেছিল আমাকে। আর আমি ওদের কথা শুনে এসব বলেছিলাম। আমি কিন্তু কখনও বলিনি স্বরূপ বিশ্বাস আমার শ্লীলতাহানি করেছেন।”
তাঁর আরও দাবি, যে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে, সেটিও তাঁর নিজের লেখা নয়। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগপত্রে সই তাঁর হলেও চাপ দিয়ে সেই সই করানো হয়েছিল। ‘স্বরূপ বিশ্বাসকে আমি চিনি না’। ভিডিও বার্তায় ওই মহিলা দাবি করেন, স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে কোনও পরিচয়ই নেই।
তাঁর বক্তব্য, “যে যেটা করেনি আমি সেটা কেন বলব। না আমি ওনাকে চিনি, না উনি আমাকে চেনেন। আমি তো এরকম জবানবন্দি দিইনি। তাও কেন উনি গ্রেফতার হলেন জানি না।” তাঁর দাবি, ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’—এই কথা বলে কয়েকজন তাঁকে নিউ আলিপুর থানায় জবানবন্দি দিতে বলেছিলেন। কিন্তু তাঁর মূল অভিযোগ স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে ছিল না বলেই দাবি করেছেন ওই মহিলা।
ভিডিওতে রূপটান শিল্পী দাবি করেন, তাঁর মূল অভিযোগ ছিল শান্তনু দে এবং বাপি মালাকারকে ঘিরে। তাঁদের বিরুদ্ধে বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া এবং গুলি করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, “আমার মূল অভিযোগ স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে নয়, বরং শান্তনু দে আর বাপি মালাকারকে নিয়ে। আমি বলেছিলাম ওরা আমাকে বাড়িতে থ্রেট দিতে এসেছিল, গুলি করতে এসেছিল।”
তবে তাঁর জবানবন্দির পর কীভাবে স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেপ্তার হলেন, তা তিনি জানেন না বলেও দাবি করেছেন। ‘৪২ দিন আমার জন্য জেল খেটেছেন উনি’
স্বরূপ বিশ্বাসের জেলযাপন নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন ওই মহিলা। তাঁর দাবি, স্বরূপ বিশ্বাস নাকি ৪২ দিন তাঁর জন্য জেল খেটেছেন—এমন কথা তিনি শুনেছেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে এমনটা হওয়ার কথা ছিল না বলেই দাবি তাঁর। ভিডিওতে ওই মহিলা বলেন, “৪২টা দিন আমার জন্য নাকি জেল খেটেছেন উনি। কিন্তু আমি তো এরকম কোনও কথাই বলিনি। দাদা ওরকম মানুষই না।”
স্বরূপ বিশ্বাস সম্পর্কে তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর কাছে খবর রয়েছে যে স্বরূপ ভালো মানুষ এবং মহিলাদের সম্মান করেন। রূপটান শিল্পীর দাবি, তাঁর লিখিত অভিযোগে বাপি মালাকার ও শান্তনু দে-র নাম ছিল। সেখানে স্বরূপ বিশ্বাসের নাম কেন আসবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, “মিথ্যে একটা জালে দাদা ফেঁসেছেন, আমিও ফেঁসেছি। দাদাও দুই মেয়ের বাবা, আমি দুই মেয়ের মা! আমার খুব খারাপ লাগছিল।” এরপরই নিউ আলিপুর থানায় গিয়ে মামলা প্রত্যাহার করেছেন বলে জানান ওই মহিলা। ‘আর কোনও ঝামেলা চাই না, শুধু কাজ করতে চাই’ পুরো ঘটনায় আর কোনও অশান্তি চান না বলেও ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট করেছেন ওই রূপটান শিল্পী। তাঁর দাবি, তিনি শুধু নিজের কাজটুকু করতে চান এবং নতুন করে কোনও সমস্যায় জড়াতে চান না।
শুক্রবার রাত থেকে তাঁর এই ফেসবুক লাইভের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কয়েক মাস আগে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং পরবর্তীতে অভিযোগকারিণীরই বয়ান বদলের ঘটনায় তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। তবে অভিযোগ প্রত্যাহারের এই দাবি এবং আগের অভিযোগের মধ্যে যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে, তার আইনি প্রভাব কী হতে পারে, তা সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের উপরই নির্ভর করবে।
