গাড়িতে হামলার পর ছেলে টাইগার শ্রফ এখন সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। পাপারাৎজিদের প্রশ্নের জবাবে থাম্বস-আপ দেখিয়ে এমনটাই জানালেন মা আয়েশা শ্রফ। বিস্তারিত জানতে পড়তে থাকুন।
২১ অক্টোবর, ২০২৬। বলিউড তারকা টাইগার শ্রফের মা আয়েশা শ্রফ জানালেন যে তাঁর ছেলে এখন সুরক্ষিত। মুম্বইয়ের জুহুতে টাইগারের গাড়িতে গুলি চলার কয়েকদিন পরই এই খবর সামনে এল। পাপারাৎজিদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, আয়েশা থাম্বস-আপ দেখিয়ে সবাইকে আশ্বস্ত করছেন। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, অভিনেতা এখন বিপদমুক্ত এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাঁর এই ছোট্ট ইশারা সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, আর চিন্তিত ভক্তরাও স্বস্তির শ্বাস ফেলেন।
১৮ অক্টোবর, ২০২৬। একটি ফুটবল ম্যাচ খেলে ফেরার পথে টাইগার শ্রফের গাড়িতে আচমকাই গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। বারুদ আর ভাঙা কাঁচের টুকরো লেগে সামান্য আহত হলেও বড়সড় বিপদ থেকে বেঁচে যান এই অ্যাকশন হিরো। তবে দিনের আলোয় হওয়া এই হামলায় তাঁর গাড়িচালক এবং রাস্তায় থাকা এক পথচারী জখম হন। এই ঘটনা গোটা মুম্বইয়ের বিনোদন জগতকে রীতিমতো নাড়িয়ে দিয়েছে।
আশ্বস্ত করলেন মা, বাড়ালেন সাহায্যের হাত
মেয়ে কৃষ্ণা শ্রফকে নিয়ে মুম্বইয়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন আয়েশা। সেখানে পাপারাৎজিরা তাঁদের ঘিরে ধরেন এবং টাইগারের শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকেন। "টাইগার জি ক্যায়সে হ্যায়?"— এই প্রশ্নের জবাবে আয়েশা স্পষ্ট থাম্বস-আপ দেখান। আর এর মাধ্যমেই অভিনেতার স্বাস্থ্য নিয়ে চলা যাবতীয় গুজবে জল ঢেলে দেন তিনি।
শুধু ছেলেকে নিয়েই নয়, হামলায় আহত অন্যদের নিয়েও যথেষ্ট উদ্বিগ্ন আয়েশা শ্রফ। মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে তিনি উমেশ চৌহানকে দেখতে যান। ৩৫ বছর বয়সী এই ভ্লগারের বুকে গুলি লেগেছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি কেইএম (KEM) হাসপাতালে ভর্তি। আয়েশা সেখানে গিয়ে তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। উমেশের বন্ধুদের কাছে নিজের কন্ট্যাক্ট নম্বর দিয়ে আসেন তিনি, যাতে নিয়মিত তাঁর শারীরিক অবস্থার আপডেট পেতে পারেন। পাশাপাশি সবরকম সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্বেগের ঝড়
আয়েশার এই বার্তা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ভক্ত থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম— সবাই আপডেটের জন্য মুখিয়ে ছিল। তাঁর এই আশ্বস্ত করার ভঙ্গি প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষ এই ঘটনা নিয়ে কতটা চিন্তিত। এমন ভয়াবহ হামলার পর অভিনেতার নিরাপত্তা নিয়ে সবার উদ্বেগটাই এখানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
জোরকদমে চলছে তদন্ত
মুম্বই পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার জোরদার তদন্ত শুরু করেছে। বিষয়টিকে তারা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। খুব দ্রুত বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। হামলার পরপরই রাজস্থানের কোটা থেকে তিন সন্দেহভাজনকে ধরে পুলিশ। এতে প্রশাসনের দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপের বিষয়টিই সামনে আসে। পরে দিল্লি পুলিশ আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। ২১ অক্টোবর, ২০২৬-এর মধ্যে— অর্থাৎ মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে— মোট দশজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা নাকি টানা দশ দিন ধরে টাইগার শ্রফের ওপর নজর রাখছিল। তারা খুব নিখুঁতভাবে এই হামলার ছক কষে। পাপারাৎজিদের ভিডিও এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট কাজে লাগিয়েই এই নজরদারি চালানো হয়। অভিনেতার দৈনন্দিন রুটিন স্টাডি করে তাঁর দুর্বল মুহূর্তগুলো টার্গেট করেছিল দুষ্কৃতীরা। তবে অনেকের অনুমান, টাইগার শ্রফ হয়তো মূল লক্ষ্য ছিলেন না। এর পেছনে আরও জটিল কোনও উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এদিকে, মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে টাইগার শ্রফ এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শিন্ডে। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার যে বদ্ধপরিকর, সে কথাও তিনি ফের মনে করিয়ে দেন।







