মুম্বইয়ে বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে হামলার ঘটনায় দুই সন্দেহভাজন শুটারের ছবি সামনে এসেছে। হামলার পর ফেলে যাওয়া বাইকটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অপরাধীদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে হামলার ঘটনায় দুই সন্দেহভাজন শুটারের প্রথম ছবি সামনে এসেছে। পুলিশ এখন সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখছে। ঘটনার আগে ও পরে ওই শুটাররা কোথায় কোথায় গিয়েছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দুই যুবকের পরনে সাদা শার্ট। একজনের মাথায় পুমার লোগো দেওয়া কালো টুপি। তদন্তকারীরা এখন তাদের পরিচয় জানার এবং তারা কোথায় লুকিয়ে আছে, তা বের করার চেষ্টা করছেন।

হামলায় ব্যবহৃত বাইক উদ্ধার

পুলিশ তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেয়েছে। তারা হামলায় ব্যবহৃত বাইকটি উদ্ধার করেছে। দুষ্কৃতীরা গুলি চালানোর পর আন্ধেরি স্টেশনের কাছে বাইকটি ফেলে পালায় বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তকারীরা বাইকটির মালিকের খোঁজ পেতে রেজিস্ট্রেশন ডিটেইলস, নম্বর প্লেট, চেসিস নম্বর এবং ইঞ্জিন নম্বর খতিয়ে দেখছেন। এর মাধ্যমে দুষ্কৃতীদের গতিবিধি বোঝার চেষ্টা চলছে।

পুলিশ ঘটনাস্থল ও তার আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও খুঁটিয়ে দেখছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, এই হামলায় তিনজন জড়িত ছিল। একজন বাইক নিয়ে অপেক্ষা করছিল, আর বাকি দুজন টাইগারের গাড়ির দিকে এগিয়ে যায়।

Scroll to load tweet…

ফুটেজে দেখা গিয়েছে, একজন যুবক পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। অন্যজনও গুলি চালানোর চেষ্টা করছিল বলে মনে করা হচ্ছে। ঠিক কী ঘটেছিল এবং কার কী ভূমিকা ছিল, তা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে।

ফুটবল ম্যাচ খেলে ফিরছিলেন টাইগার

রবিবার, ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুহু এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। টাইগার শ্রফ ফুটবল খেলে ফিরছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অভিনেতার গায়ে গুলি না লাগলেও, তাঁর গাড়িচালক ফিরদৌস এবং এক অটোচালক আহত হয়েছেন বলে খবর।

হামলাকারীরা গুলি চালানোর পর বাইকে করে পালিয়ে যায় বলে রিপোর্টে প্রকাশ। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে কীভাবে এই হামলা চালানো হল এবং কারা এর পিছনে রয়েছে।

দুষ্কৃতীদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম

মুম্বই পুলিশ সন্দেহভাজনদের ধরতে ইতিমধ্যেই একাধিক টিম তৈরি করেছে। এর মধ্যে স্থানীয় পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা রয়েছেন। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ ও ব্যালিস্টিক প্রমাণ খতিয়ে দেখছেন।

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই দাবির সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কারা এই গুলি চালাল এবং তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল তা জানতে।

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ পুলিশ আধিকারিকদের দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনার পর উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেও টাইগার ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং এই হামলার তীব্র নিন্দা করেন। পুলিশ সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে সবরকম প্রমাণ খতিয়ে দেখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।