তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের সই-সংক্রান্ত বিতর্কের তদন্তে সিআইডি একটি পাঁচ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের সই-সংক্রান্ত বিতর্কের তদন্তে এ বার পাঁচ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করল সিআইডি। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিশেষ দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন সিআইডির ডিআইজি পদমর্যাদার এক আধিকারিক। যদিও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে সিট গঠনের কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। অভ্যন্তরীণ নির্দেশের ভিত্তিতেই এই বিশেষ দল তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সিআইডি সূত্রে খবর, সই-কাণ্ডের তদন্তে একাধিক জেলার সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করতে হচ্ছে। তদন্তকে আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করতে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যেই এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে তলব করা হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টায় তাঁকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত হাজিরা দেবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। সম্প্রতি ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় আক্রান্ত হওয়ার পর বর্তমানে তিনি বাড়িতেই রয়েছেন।

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে এই বিতর্ক। গত ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর ৬ মে কালীঘাটে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে উপস্থিত বিধায়কেরা হাত তুলে তাঁকেই পরিষদীয় দলের নেতৃত্ব নির্বাচন করার ক্ষমতা দেন।

এরপর তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্র উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিম মুখ্যসচেতক হবেন। সেই মর্মে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিধানসভায় পাঠানো হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।

বিধানসভার আপত্তি ছিল, পরিষদীয় দলের নেতা ও অন্যান্য পদাধিকারীদের নির্বাচন পরিষদীয় দলের বৈঠকেই সম্পন্ন হওয়া উচিত। অথচ ৬ মে-র বৈঠকে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

পরবর্তীতে ১৯ মে কালীঘাটে ফের একটি বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে বিধায়কদের দিয়ে একটি কার্যবিবরণীতে স্বাক্ষর করানো হয়। অভিযোগ, সেই নথিতে ৬ মে-র তারিখ উল্লেখ করা হয়েছিল। এই বিষয়টিকেই তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু বলে মনে করা হচ্ছে।

তদন্তে বিধায়কদের বাড়িতে সিআইডি

সই-কাণ্ডের তদন্তে ইতিমধ্যেই চার বিধায়কের বাড়িতে গিয়েছে সিআইডি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ, ডোমজুড়ের তাপস মাইতি এবং ক্যানিং পূর্বের বাহারুল ইসলাম।

বিশেষ করে বাহারুল ইসলামের সই নিয়েই নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাহারুল দাবি করেছেন, ৬ মে তিনি কালীঘাটের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। তদন্তকারীদের তিনি জানিয়েছেন, ওই দিন তিনি ভাঙড়ে নিজের বাড়িতেই ছিলেন এবং ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে কোনও বৈঠকে যোগ দেননি।

বাহারুলের কথায়, তদন্তকারীরা তাঁকে ৬ মে-র একটি বৈঠকের নথি দেখান। তিনি স্পষ্ট জানান, ওই বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি তিনি দলীয় নেতৃত্বকেও জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

গোটা ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূলের প্রবীণ নেতা ও বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও মুখ খুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, কাউকে জোর করে সই করানো হয়নি। তবে বাহারুল যে সইটি দেখে সেটিকে নিজের সই বলে মানতে চাননি, সেই বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।

শোভনদেব বলেন, “আমরা কাউকে দিয়ে জোর করে সই করাইনি। কে লিখেছে জানি না। তবে বাহারুল ওই সইটি দেখে বলেছেন, ওটা তাঁর সই নয়।”

সই-কাণ্ডের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন প্রশ্ন সামনে আসছে। বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের পর তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।