জনপ্রিয় টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ওড়িশার তালসারি সমুদ্রসৈকতে শ্যুটিং চলাকালীন জলে ডুবে মারা যান। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলা বিনোদন জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং তাঁর মৃত্যু ঘিরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন ও তদন্তের দাবি উঠেছে। পরিবার, সহকর্মী ও প্রতিবেশীরা এই দুঃসংবাদে স্তব্ধ।

টলিপাড়ার জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা বাংলা বিনোদন জগতে। শুধু স্টুডিয়োপাড়াই নয়, তাঁর নিজের পাড়া বিজয়গড়ও স্তব্ধ এই দুঃসংবাদে।

জানা গিয়েছে, রবিবার একটি ধারাবাহিকের শ্যুটিং করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন ৪৩ বছর বয়সী এই অভিনেতা। ওড়িশা সীমান্ত সংলগ্ন তালসারি সমুদ্রসৈকতে শ্যুটিং চলাকালীন একটি দৃশ্যের প্রয়োজনে জলে নামেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আচমকাই তিনি জলে তলিয়ে যান। সঙ্গে থাকা টেকনিশিয়ান ও ইউনিট সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে দিঘার হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে শেষরক্ষা হয়নি—চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, জলে ডুবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, যদিও ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই তদন্তের দাবি উঠেছে।

দুঃসংবাদ পেয়ে অভিনেত্রীরূপে তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার দ্রুত শাশুড়ির কাছে ছুটে আসেন। কিছুক্ষণ পর ছেলের কাছে ফিরে গেলেও পরে আবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ নীল গাড়িতে করে ফেরেন তিনি। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস যিনি প্রিয়াঙ্কাকে বাড়ির ভিতরে নিয়ে যান।

ক্রমশ বাড়তে থাকে ভিড়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একে একে পৌঁছন একাধিক তারকা—সোহিনী সরকার, শোভন গঙ্গোপাধ্যায়, সৌরভ দাস, দর্শনা বণিক এবং অনিন্দ চট্টোপাধ্যায়। প্রত্যেকেই শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানান।

বিজয়গড়ের পাড়ায় রাহুল ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় মানুষ। সম্প্রতি পাড়ার একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এক প্রতিবেশী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “শ্যামলী কাকিমাকে সামলানো যাচ্ছে না। ১০ দিন আগেও রাত আড়াইটে পর্যন্ত একসঙ্গে ক্রিকেট খেলেছি। রাহুল ছিল একেবারেই মাটির মানুষ, কোনও তারকাসুলভ আচরণ ছিল না।”

আর এক প্রতিবেশীর কথায়, “এত বড় তারকা একা নৌকো করে মাঝসমুদ্রে গেল, কোনও নিরাপত্তা ছিল না—মৃত্যুটা কেমন যেন লাগছে।”

এদিকে, স্থানীয় এক দোকানদার স্মৃতিচারণ করে বলেন, “দাদা মোমো আর রাইস খেতে খুব ভালোবাসত। এমন হবে ভাবতেই পারিনি।”

রাহুলের নাট্যদলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অভিষেক জানান, “এই বাড়িতে বসে কত আড্ডা, কত খাওয়া-দাওয়া হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন ছিল ওর—সেটা পূরণও করেছে।”

রাত গভীর হতে ভিড় কিছুটা কমে এলেও পরিবারের পাশে ছিলেন প্রিয়াঙ্কা। রাত দেড়টা পর্যন্ত তিনি শাশুড়ির সঙ্গেই ছিলেন। পরে বেরিয়ে আসেন দেবলিনা দত্ত। তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতিতে প্রিয়াঙ্কার শক্ত থাকা ছাড়া কোনও উপায় নেই।”

এখন গোটা বিজয়গড় অপেক্ষা করছে সোমবার দুপুরের জন্য, যখন অভিনেতার দেহ বাড়িতে আনা হবে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর অকাল প্রয়াণে বাংলা বিনোদন জগতে তৈরি হয়েছে এক অপূরণীয় শূন্যতা।