বিজয় দেবেরাকোন্ডা এবং রশ্মিকা মান্দানার দাম্পত্য জীবন নিয়ে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ত্রীকে বিজয়ের ফলো না করা এবং 'কফি উইথ করণ'-এর নবম সিজনে তাঁদের মন্তব্য এই ডিভোর্সের গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছে।

বিজয় দেবেরাকোন্ডা এবং রশ্মিকা মান্দানা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে করেছিলেন। তাঁরা এখন আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার কেন্দ্রে। শোনা যাচ্ছে, বিজয় সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ত্রী রশ্মিকাকে ফলো করেন না। এর পাশাপাশি 'কফি উইথ করণ'-এর নবম সিজনে তাঁদের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে বিজয়ের করা একটি মন্তব্য অনলাইনে তুমুল সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই জুটি নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে বরাবরই গোপনীয়তা বজায় রেখেছিলেন। বছরের পর বছর ডেটিংয়ের গুঞ্জন চললেও, বাগদানের আগে পর্যন্ত তাঁরা মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন। অবশেষে এই বছরের শুরুতে উদয়পুরে খুব কাছের মানুষদের উপস্থিতিতে তাঁরা সাত পাকে বাঁধা পড়েন।

ইনস্টাগ্রামে 'আনফলো' ঘিরে বিতর্ক

বিজয় ইনস্টাগ্রামে স্ত্রী রশ্মিকাকে আনফলো করেছেন, এমন খবর ছড়াতেই জল্পনা আরও বাড়ে। নেটিজেনরা তাঁদের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশের দাবি, বিজয় হয়তো কোনোদিনই রশ্মিকা বা অন্য কাউকে ফলো করতেন না। তাঁর অ্যাকাউন্ট সম্ভবত তাঁর টিম সামলায়। তা সত্ত্বেও, বিজয় কিন্তু নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় রশ্মিকার সঙ্গে আদুরে ছবি এবং মেসেজ পোস্ট করা থামাননি।

'কফি উইথ করণ'-এর মন্তব্য ঘিরে ট্রোলিং

২০২৬ সালের ২১ অক্টোবরের দিকে সম্প্রচারিত 'কফি উইথ করণ' সিজন ৯-এর দ্বিতীয় এপিসোডে তাঁদের উপস্থিতি এই আলোচনা আরও বাড়িয়ে দেয়। শোয়ের সঞ্চালক করণ জোহর তাঁদের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন করেন। উত্তরে বিজয় জানান, রশ্মিকা তাঁকে "১০০ বার" বা "পুরো এক বছর" ধরে বিয়ের কথা বলার পর তিনি রাজি হয়েছিলেন।

নেটিজেনরা এই মন্তব্যের পরেই অনলাইনে বিজয়কে নিয়ে ট্রোলিং শুরু করেন। অনেকেই অভিযোগ করেন যে, বিজয় জনসমক্ষে রশ্মিকাকে অপমান করেছেন। কেউ কেউ তাঁর মন্তব্যকে "টক্সিক" এবং "রেড ফ্ল্যাগ" বলেও দাগিয়ে দেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই বলতে শুরু করেন, বিজয়ের কথা শুনে মনে হচ্ছে যেন তিনি রশ্মিকাকে বিয়ে করে তাঁকে "উদ্ধার" করেছেন বা কোনোমতে "মেনে নিয়েছেন"।

বাড়ছে উদ্বেগ, ডিভোর্সের জল্পনা

সোশ্যাল মিডিয়ায় 'আনফলো' করার খবর এবং 'কফি উইথ করণ'-এ বিজয়ের বিতর্কিত মন্তব্য সাধারণ মানুষের নজর তাঁদের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। এর ফলে ডিভোর্সের জল্পনা মাথাচাড়া দিয়েছে। অনলাইনে অনেকেই তাঁদের বিয়ের স্থায়িত্ব নিয়ে খোলাখুলি প্রশ্ন তুলছেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের বিয়ে নিয়ে যে উন্মাদনা ছিল, এখনকার পরিস্থিতি তার ঠিক উল্টো।

ক্রমাগত ট্রোলিংয়ের জবাব

এই জুটি অবশ্য বারবারই পাবলিক স্ক্রুটিনির জবাব দিয়েছেন। এর আগে হিন্দিতে কথা বলার সময় সাউথ ইন্ডিয়ান টান এবং তাঁর "দয়ালু" স্বভাবের জন্য রশ্মিকাকে ট্রোল করা হয়েছিল। অনেকেই তাঁর স্বভাবকে "ওভারঅ্যাক্টিং" বলেছিলেন। বিজয় তখন প্রকাশ্যে স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় কীভাবে মানুষের কঠোর মনোভাব তৈরি হয়, তা নিয়ে কথা বলেছিলেন।

'কফি উইথ করণ'-এর মতো শোতে তাঁদের সাম্প্রতিক উপস্থিতি আসলে নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করার একটা চেষ্টা। যদিও এর মধ্যেই ডিভোর্সের নতুন জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই চলমান বিতর্কের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁরা কী বলেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন অনুরাগীরা।