অভিনেতার মতে, রাবণ শুধুমাত্র একজন খলনায়ক নন, বরং তাঁর চরিত্রের একাধিক স্তর রয়েছে, যা একজন অভিনেতার কাছে আকর্ষণীয়।
বলিউডের বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘রামায়ণ’-এ রাবণের চরিত্রে দেখা যাবে দক্ষিণী তারকা যশকে। রামের চরিত্রে রয়েছেন রণবীর কাপুর এবং সীতার ভূমিকায় সাই পল্লবী। ইতিমধ্যেই ছবির এই কাস্টিং নিয়ে দর্শকদের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছিল, রামের মতো চরিত্র ছেড়ে যশ কেন রাবণের ভূমিকাই বেছে নিলেন?
সম্প্রতি এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন যশ। অভিনেতার কথায়, রাবণ তাঁর কাছে শুধুমাত্র একজন খলনায়ক নন। বরং চরিত্রটির মধ্যে রয়েছে একাধিক স্তর এবং অভিনয়ের জন্য রয়েছে বিপুল সুযোগ। যশ জানিয়েছেন, ‘রামায়ণ’-এর অন্য কোনও চরিত্র তাঁকে অফার করা হলেও সম্ভবত তিনি তা করতেন না। রাবণকেই তাঁর কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র বলে মনে হয়েছে।
যশের মতে, রাবণ অসাধারণ প্রতিভাবান এবং জ্ঞানী ছিলেন। একাধিক বিদ্যায় তাঁর দক্ষতা ছিল। কিন্তু নিজের ক্ষমতা ও শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাই শেষ পর্যন্ত তাঁর পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই দ্বন্দ্বই চরিত্রটিকে একজন অভিনেতার কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
অভিনেতা আরও মনে করেন, ‘রামায়ণ’ শুধুমাত্র ভালো বনাম খারাপের গল্প নয়। রাম এবং রাবণের যাত্রার মধ্যে থাকা বৈপরীত্যই এই মহাকাব্যকে এতটা চিরন্তন করে তুলেছে। রাম রাজপরিবারে জন্ম নিয়েও জীবনের এক পর্যায়ে সবকিছু হারান এবং নিজের আচরণ ও কাজের মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করেন। অন্যদিকে, রাবণ শূন্য থেকে ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠেন, কিন্তু সেই ক্ষমতা ও প্রতিহিংসা শেষ পর্যন্ত তাঁকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।
রাবণকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে যশ জানিয়েছেন, তিনি চরিত্রটিকে নতুন করে তৈরি করার চেয়ে তার মানসিকতা বোঝার দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কেন রাবণ কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাঁর কাজের পিছনে কী উদ্দেশ্য ছিল—সেই বিষয়গুলিই অভিনেতার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
রাবণের সঙ্গে যশের ব্যক্তিগত একটি আবেগের সম্পর্কও রয়েছে। ছোটবেলায় তাঁর দাদুর কাছ থেকেই তিনি রামায়ণের গল্প শুনতেন। ফলে ছোটবেলা থেকেই রাবণ-সহ এই কাহিনির বিভিন্ন চরিত্র তাঁর কল্পনার অংশ ছিল। সেই পরিচিত চরিত্রকে এবার বড় পর্দায় নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরার দায়িত্বকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি।
উল্লেখ্য, রাবণের চরিত্রে অভিনয় করা নিয়ে একসময় যশের সিদ্ধান্ত ঘিরে ভিন্ন খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। ২০২৩ সালে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, তাঁর টিমের আপত্তির কারণে তিনি নাকি চরিত্রটি করতে রাজি ছিলেন না। পরে যশ নিজেই স্পষ্ট করেন, রাবণ চরিত্রটিই তাঁর কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং তিনি অন্য কোনও চরিত্রের জন্য এই ছবিতে আসতে চাইতেন না।
এখন দর্শকদের অপেক্ষা, যশের অভিনয়ে ‘রামায়ণ’-এর রাবণকে কতটা ভিন্ন ও গভীরভাবে দেখা যায়। ছবির পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি এবং যশ নিজেও ছবিটির প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত।
