Anupam Kher: কেন কোটি কোটি টাকা থাকলেও হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করাননি অনুপম খের? বেড়িয়ে এল ভয়ঙ্কর রহস্য

বলিউডের ঝলমলে দুনিয়ায় যেখানে বাহ্যিক সৌন্দর্য, তারুণ্য এবং ‘পারফেক্ট লুক’ বজায় রাখার চাপ প্রায় সর্বগ্রাসী, সেখানে সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হাঁটলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা অনুপম খের। কোটি টাকার প্রস্তাব পেয়েও হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করতে অস্বীকার করেছেন তিনি—আর সেই সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় জগতে সক্রিয় অনুপম খের। ১৯৮০-র দশকের শুরু থেকে তাঁর অভিনয় জীবনের পথচলা, আর সেই শুরু থেকেই তাঁর টাক মাথা যেন হয়ে উঠেছে এক আলাদা পরিচয়। বহু চরিত্রে অভিনয় করলেও তাঁর এই স্বতন্ত্র লুক কখনও বদলানোর চেষ্টা করেননি তিনি।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানান, একাধিক হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পক্ষ থেকে তাঁকে মোটা অঙ্কের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। উদ্দেশ্য একটাই—তাঁকে দিয়ে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করিয়ে সেটিকে প্রচারের হাতিয়ার বানানো। কিন্তু এই প্রলোভনকে তিনি একেবারেই গুরুত্ব দেননি।

অনুপম খেরের কথায়, তিনি যদি এই পরিবর্তন করতেন, তাহলে তাঁর নিজের পরিচয়টাই বদলে যেত। “আমি আর আমি থাকতাম না”—এই স্পষ্ট বক্তব্যেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি।

সাধারণত বিনোদন জগতে বড় অঙ্কের অর্থ প্রস্তাব এলে তা প্রত্যাখ্যান করা সহজ নয়। কিন্তু অনুপম খের সেই প্রচলিত ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করেছেন। তিনি জানান, বিভিন্ন সংস্থা তাঁকে বিপুল অর্থের প্রস্তাব দিলেও তিনি কাউকেই সেই সুযোগ দেননি।

একটু হাস্যরসের সঙ্গেই অভিনেতা বলেন, “আমি তাদের কখনও সেই সুযোগই দিইনি।” তাঁর মতে, কেবল অর্থের জন্য নিজের স্বাভাবিক চেহারা বদলে ফেলা তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

এই প্রসঙ্গে নিজের পরিবারের একটি মজার ঘটনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ছোটবেলায় তাঁর ছেলে সিকন্দর খের একবার হেয়ার অয়েলের বিজ্ঞাপন দেখে বাবাকে নাকি বলেছিলেন—“এগুলো নিয়ে ভাববেন না!”

এই ছোট্ট মন্তব্যই অনুপম খেরের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল বলে তিনি জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের মুহূর্তই তাঁকে নিজের স্বাভাবিক সত্তাকে গ্রহণ করতে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে।

বলিউডে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে তরুণ দেখানোর প্রবণতা নতুন নয়। কসমেটিক সার্জারি থেকে শুরু করে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট—সবই এখন খুব সাধারণ ব্যাপার। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে অনুপম খেরের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী।

তিনি মনে করেন, একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর অভিনয় দক্ষতা এবং ব্যক্তিত্ব—বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়। নিজের স্বকীয়তাকেই তিনি ‘ব্র্যান্ড’ হিসেবে দেখেন, যা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।

অনুপম খেরের এই বক্তব্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, বরং একটি বৃহত্তর বার্তাও বহন করে। নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলতে চান—নিজের চেহারা বা ত্রুটি নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা না করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেকে গ্রহণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আজকের সোশ্যাল মিডিয়া-চালিত দুনিয়ায় যেখানে ‘পারফেক্ট লুক’-এর চাপ ক্রমশ বাড়ছে, সেখানে তাঁর এই অবস্থান অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার।