লিভারপুল বনাম লিডস নিয়ে উত্তেজনার পারদ চড়ে গিয়েছিল কাল ম্যাচ শুরুর অনেক আগে থেকেই। মার্সেলো বিয়েলসার লিডস ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে নিজেদের পূর্ণশক্তির দলই নামিয়েছিলেন লিভারপুলের জার্মান কোচ জুর্গেন ক্লপ। ম্যাচ শুরুর আগে দুই কোচের একে অপরের প্রতি উষ্ণ সম্ভাষণ মন ছুঁয়ে যায় ফুটবল প্রেমীদের। কিন্তু ম্যাচ শুরু হতেই সিরিয়াস হয়ে নিজেদের দলের পারফরম্যান্সের প্রতি মনোযোগী হয়ে যান দুই চাণক্য। কালকের ম্যাচে লিডস ইউনাইটেড জিততে না পারলেও তারা যে আসন্ন লিগের অনেক অঙ্ক বদলে দেবে, তা পরিষ্কার করে দেয় অচিরেই। 

ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণ, প্রতি-আক্রমণে জমজমাট হয়ে উঠেছিল খেলা। মাত্র ৪ মিনিটের মাথায় সালাহ-র শট লিডস ডিফেন্ডারের হাতে লাগায় পেনাল্টি পায় রেডস-রা। গোল করতে ভুল করেননি সালাহ। কিন্তু এর পর দলে না গিয়ে আক্রমণে চাপ বাড়ায় লিডস। ৮ মিনিটে নিজেদের ডিফেন্স থেকে ভেসে আসা লং বল ধরে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার আর্নল্ড এবং জো গোমেজ-কে কাটিয়ে অসাধারণ একটি গোল করে যান লিডসের লেফট উইঙ্গার জ্যাক হ্যারিসন। এরপর ২০ মিনিটে কর্নার থেকে হেড করে লিভারপুলকে এগিয়ে দিন তাদের প্রধান ডিফেন্ডার ভার্জিল ভ্যান ডাইক। কিন্তু তার পরে ভ্যান ডায়েকের মারাত্মক ডিফেন্সিভ ভুলের জন্যই লিডসকে সমতায় ফেরান প্যাট্রিক বামফোর্ড। কিন্তু তার ঠিক দু মিনিট পরেই একটি লুজ বল ধরে অসাধারণ শটে আরও একবার লিভারপুলকে এগিয়ে দেন মো সালাহ। প্রথমার্ধ শেষ হয় ৩-২ ফলেই। 

দ্বিতীয়ার্ধেও লিভারপুলের সাথে পাল্লা দিয়ে লড়াই চালাতে থাকে লিডস। ফলস্বরূপ ম্যাচের ৬৬ মিনিটে লিডসের পর্তুগিজ উইঙ্গার হেলদার কোস্তার পাস থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান ক্লিচ। এরপর লিভারপুল আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়ায়। ৮৭ মিনিটে চাপের মুখে বোকার মতো ফাউল করে লিভারপুলকে পেনাল্টি পাইয়ে দেন লিডসে নতুন সই করা স্পেনের ফরোয়ার্ড রদ্রিগো। পেনাল্টি থেকে আবারও একবার গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক এবং দলের তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে দেন সালাহ। কাল রাতে হারলেও মার্সেলো বিয়েলসা-র এই লিডস যে অনেক বড় দলের রাতের ঘুম কাড়বে আসন্ন মরশুমে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।