চলতি মরশুমে একেবারেই স্বস্তিতে নেই পেপ গুয়ার্দিওয়ালা। ম্যানচেস্টার সিটির পারফরম্যান্সে কপালে চিন্তায় ভাঁজ বেড়েছে তার। মরশুমে কোনো প্রতিযোগিতাতেই ধারাবাহিকতা দেখাতে ব্যর্থ পেপ-এর ছেলেরা। ভালো পারফরম্যান্স করেও তা ধরে রাখতে পারছে না সিটি। ফলে সভ্য সমর্থক থেকে শুরু করে ক্লাব অফিসিয়াল সকলেই হতাশ।

প্রথম বছর ট্রফিলেস থাকার পর, দ্বিতীয় মরশুম থেকে ক্লাবে ট্রফির জোয়ার এনেছেন পেপ। প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ, লিগ কাপ, কমিউনিটি শিল্ড থেকে শুরু করে যাবতীয় ঘরোয়া টুর্নামেন্টে সিটি নিজের দাপট বজায় রেখেছে। শেষ দুই বার অসাধারণ পারফরম্যান্স করে লিগ জিতেছে সিটি। শেষ মরশুমে লিভারপুলের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরও শেষমেশ ১ পয়েন্টের ব্যবধানে লিগ জেতে সিটি। 

এহেন ম্যানচেস্টার সিটির চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পারফরম্যান্স একেবারেই সাদামাটা। গুয়ার্দিওয়ালা আসার আগে কোনদিন তারা লিগ জেতেননি। তিনি আসার পরেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ছবিটা রয়ে গেছে একইরকম। এই মরশুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রূপপর্ব থেকে প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে সহজেই পৌঁছেছে সিটি। কিন্তু প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের সামনে পড়েছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবসময় ভালো পারফরম্যান্স করা রিয়াল মাদ্রিদ। পর পর তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার পর শেষ মরশুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ষোলো পর্ব থেকেই ছিটকে গিয়েছিল রিয়াল। তাই এইবার তারা ভালো কিছু করে দেখাতে মরিয়া থাকবে। লড়াইটা একেবারেই সহজ নয় ম্যানচেস্টার সিটির। 

চলতি মরশুমে ঘরোয়া লিগে বিশ্রী পারফরম্যান্স ম্যান সিটির। প্রথম স্থানে থাকা লিভারপুলের থেকে ২২ পয়েন্টে পিছিয়ে রয়েছে তারা। টটেনহ‍্যাম হটস্পার্স, লিভারপুল, ম্যান ইউনাইটেডের মতো বড়ো দলগুলির পাশাপাশি নরউইচ সিটি কিংবা শেষ দুই মরশুমে ভালো ফর্মে থাকা উলভ্যাম্পটন ওয়ারিয়ার্সের কাছেও হারতে হয়েছে তাদের। লিগ জয়ের আশা কার্যত শেষ। এখন একমাত্র ভরসা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। সেখানে হারলে চাকরি যেতে পারে বলে আশংকা করছেন পেপ গুয়ার্দিওয়ালা। তার আমলে ম্যানচেস্টার সিটিতে ট্রফির বন্যা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু পেপ মনে করেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো টুর্নামেন্টে সিটির ক্রমাগত বাজে পারফরম্যান্স মেনে নেওয়া মুশকিল। তাই এই বছর সেখানে ভালো কিছু না করলে তার ম্যানেজারের পদটি চলে যেতে পারে এবং তা খুবই স্বাভাবিক।