চলতি আই লিগে কেবলমাত্র একটি ম্যাচ হেরেছে মোহনবাগান। ঘরের মাঠে মরশুমের শুরুর দিকে মোহনবাগান কে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল চার্চিল ব্রাদার্সই। সেইসময় টালমাটাল অবস্থায় ছিল মোহনবাগান। কিন্তু নতুন বছর পড়তেই পরিস্থিতি পালটে যায়। একের পর এক ম্যাচ জিততে জিততে লিগ টেবিলে বড় লিড নেয় মোহনবাগান। চিরশত্রু ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে ডার্বিতেও তারা জেতে ২-১ ফলাফলে। অসাধারণ ধারাবাহিকতা দেখিয়ে আই-লিগ জয়ের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে সবুজ মেরুন ব্রিগেড।

এই অবস্থায় শনিবার ফের গোয়ার ক্লাবের মুখোমুখি হয়েছে মোহনবাগান। অপ্রতিরোধ্য মোহনবাগান কে আরও একবার রুখে দিতে পারে কিনা সেই দিকে চোখ রেখেছিল গোটা ভারতীয় ফুটবল। কিন্তু দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচে চার্চিল কে কোনো সুযোগ দেয়নি কিবু ভিকুনার শিষ্যরা। ৩-০ গোলে চার্চিলের মাঠেই চার্চিলকে খড় কুটোর মত উড়িয়ে দেয় মোহনবাগান। আই লিগে প্রায় দু বছর পরে গোয়ার এই ক্লাবকে হারালো মোহনবাগান।

ম্যাচের প্রথম থেকেই আক্রমণে চার্চিলের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে মোহনবাগান। ফলস্বরূপ ৬ মিনিটেই গোল করে মোহনবাগান কে এগিয়ে দেয় তাদের নতুন বিদেশি ফুটবলার বাবা দিওয়ারা। ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টার মাঠে দাপিয়ে খেলে মোহনবাগান। এরপর ম্যাচের দখল নেয় চার্চিল। অসাধারণ ফুটবল খেলে বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে তারা। ইস্টবেঙ্গলে খেলে যাওয়া স্ট্রাইকার প্লাজা বেশ কয়েকবার গোল করার মতো জায়গায় পৌঁছে যান। একবার মোহনবাগান গোলকিপারকে একা পেয়েও গোলে বল ঠেলতে ব্যর্থ হন তিনি। এর পর প্রথমার্ধে গোলমুখ খুলতে পারেনি কোনো দলই। 

প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও দাপট ছিল চার্চিলের। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধ পুরোপুরি মোহনবাগানময়। দ্বিতীয়ার্ধে ৫০ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করে যান ভিপি সুহের। এই ধাক্কা ভালো করে সামলে ওঠার আগেই ব্যবধান ৩-০ করেন কোমরন তুর্শনভ। এরপরও বাকি ম্যাচে শাসন করে মোহনবাগান। অল্পের জন্য নিজের দ্বিতীয় গোল মিস করেন বাবা দিওয়ারা। গোটা দ্বিতীয়ার্ধে একবারও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি চার্চিল। 

এই জয়ের ফলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা পাঞ্জাব এফ সি-র থেকে ১১পয়েন্টে এগিয়ে রইলো মোহনবাগান। ১৩ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৩২। সমসংখ্যক ম্যাচ খেলে পাঞ্জাবের বয়স ২১। এক ম্যাচ কম খেলে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রইলো চার্চিল।