রাজনীতির উত্তাপ এবার খেলার মাঠে। বছরের প্রথম ইস্ট-মোহন  ডার্বিতে দেখা গেল নাগরিকত্ব বিরোধী পোস্টার। বিশাল টিফোয় সাজল ইস্টবেঙ্গল গ্যালারি। বাদ তাকল  না  মোহনবাগানেও। সেখানে ফুটে উঠেছে জীবন সংগ্রামের  ইতিহাস।  

স্থলপথে প্রতিবাদ হয়েছে আগেই। এদিন গঙ্গায় সাঁতার কেটে সিএএ বিরোধী প্রতিবাদ করেছেন এক সাঁতারু। তৃণমূলের মন্ত্রীর হাত ধরে গঙ্গাায় সাঁতরেছেন মুকেশ গুপ্তা নামের এক যুবক। এবার রবিবাসরীয় ডার্বিতে দেখা গেল একেবারে ভিন্ন চিত্র। সবুজ-মেরুন , লাল-হলুদের মধ্য়ে ফুটে উঠল রাজনীতির রং। এদিন খেলা শুরুর মিনিটের পাঁচেকের মধ্য়েই ইস্টবেঙ্গল গ্যালারিতে দেখা মেলে লম্বা আর একটি টিফোর। যাতে লেখা, 'রক্ত দিয়ে কেনা মাটি, কাগজ দিয়ে নয়।' মূলত, ওপার বাংলা থেকে আসা ভিটে মাটি হীন বাঙালির অস্তিত্বের  লড়াই ফুটে ওঠে এই লেখায়। একই জিনিস দেখা যায়, মোহনবাগান  গ্য়ালারিতেও। যেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা, 'পলাশীর প্রান্তরে সূর্যাস্তের পর চোখ চোখে রেখে লড়াই শিখিয়েছি আমরাই।'
 
খেলার মাঠের ইতিহাস  বলেছ, অতীতে বহু রাজনৈতিক বক্তব্য়ের সাক্ষী থেকেছে বাংলার খেলার মাঠ। যদিও খেলার মাঠে এই ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য় নিয়ে আপত্তি তুলেছেন অনেকেই। মনে করা হচ্ছে, বাম ছাত্র যুবরাই এই টিফোর পিছনে রয়েছে। টিফো বাদেও এদিন গ্য়ালারিতে অনেকেই নো এনআরসি, নো সিএএ পোস্টার ধরেছেন। মাঠ আসার আগে ফেসবুকে  ছেয়ে গিয়েছে তাঁদের সেই পোস্টার। 

রাজ্য়  রাজনীতির সাম্প্রতিক ঘটনাক্রম বলছে, সিএএ নিয়ে কদিন আগেই অগ্নিগর্ভ হয়েছে রাজ্য় । নিত্য়দিন  সিএএ নিয়ে নিজেই রাস্তায় নেমেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। পাল্টা সিএএ-র সমর্থনে অভিনন্দন যাত্রা করেছে বিজেপি। দুই যুযুধানের  বাক্য়বানে উত্তাল চেহারা নিয়েছে রাজ্য় রাজনীতি। যাতে নতুন রং লাগিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বেলুড় মঠের অনুষ্ঠানে সিএএ নিয়ে তাঁর মন্তব্য় নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। এবার খেলার মাঠে সিএএ ঢুকে পড়ায় সেই একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হল বলে মনে করছে ক্রীড়াপ্রেমীরা।