রূপকথাকেও হার মানাবে এই বাস্তব। গলি থেকে রাজপথ কথাটির সঙ্গে আমরা সকলেই পরিচিত। কিন্তু  তরুণ ফুটবলার শুভ পাল পারি জমিয়েছেন হাওড়ার সালকিয়া  থেকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ক্লাব জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখে। ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে বায়ার্ন মিউনিখের  অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্ব যুব দলে সুযোগ পেয়েছেন শুভ পাল। মিলে গেল মিউনিখে বায়ার্নের অ্যাকাডেমিতে গিয়ে অনুশীলনের সুযোগও। সেখানে নজর কাড়তে পারলেই মিলে যেতে পারে বায়ার্ন সহ ইউরোপের নামি ক্লাবের হয়ে খেলার সুযোগ। ফলে শুভ-র সামনে এখন একের পর এক স্বপ্ন পূরণের হাতছানি।

তবে শুভর এই যাত্রা পথ মোটেই মসৃণ ছিল না। তাঁর বাবা বিপ্লব পাল এক গেঞ্জি কারখানার শ্রমিক। অভাব অনটনের পরিবার। কিন্তু ছোট বেলা থেকেই শুভ-র ফুটবল অন্ত প্রাণ। কিন্তু একটা সময় খেলার জার্সি ও বুট কেনার পর্যন্ত ক্ষমতা ছিল না সালকিয়ার তরুণ ফুটবলারের। ছেলে বেলায় স্থানীয় সালকিয়া অ্যাসোসিয়েশনে অনুশীলন করত শুভ। সেই সময় সেখানে প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে চিমা ওকেরির। নাইজেরিয়ান তারকাই তাকে বুট কিনে দেন ও  দেশপ্রিয় পার্কে অনুশীলনের ব্যবস্থা করে দেন। ফলে শুভ-র উত্থানের পেছনে রয়েছে চিমার অবদান। শুভর সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে দিল্লির সুদেবা এফসির অবদান। ২০১৫-১৬ সাল থেকে সুদেভা এফসির সঙ্গে যুক্ত শুভ। মাত্র ১৬ বছর বয়সে সেখানে ক্যাপ্টেন হয়  তিনি। অনূর্ধ্ব ১৯ আই লিগে সুদেবার হয়ে ১৩টি ম্যাচ ৫৮টি গোল করে শুভ। 

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্ব যুব দল গড়ার লক্ষ্যে অনলাইন ট্রায়ালের ব্যবস্থা করেছিল বায়ার্ন মিউনিখ। ব্রাজিল, জার্মানি, পর্তুগাল, চিন সহ ৬৪টি দেশ থেকে ৬৫৪ জন ফুটবলার অনলাইনে ট্রায়াল দিয়েছিল। ১২০০-র ওপর ভিডিও জমা পড়েছিল। বায়ার্নের চোখে লেগে যায় শুভকে। সব সময় গোল করার খিদে ও ঠিক পজিশনিং সেন্সের সুবাদেই শুভকে নির্বাচিত করেছেন বায়ার্নের কোচেরা। সেই ৬৫৪ জন প্রতিভাবান ফুটবলারের মধ্যে থেকে ১৫ জনকে চূড়ান্ত স্কোয়াডে রেখেছেন বায়ার্ন মিউনিখের কোচেরা। যার মধ্যে স্থান পেয়েছেন হাওড়ার শুভ। বায়ার্ন মিউনিখের ওয়েবসাইটে ওয়ার্ল্ড স্কোয়াডের সদস্য হিসেবে শুভ পালের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। এই ফুটবলারদের চলতি মাসেই নিয়ে যাওয়া হবে মেক্সিকোতে। সেখানে দু-সপ্তাহের ট্রেনিং চলবে। তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলা হবে। তারপরই গোটা ওয়ার্ল্ড স্কোয়াড চলে যাবে মিউনিখে। আগস্ট মাসে মিউনিখে শুরু হবে মূল পর্বের ট্রেনিং। প্রশিক্ষণ দেবেন বায়ার্ন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ ক্রিস্টোফার লোচ। সেখানে বায়ার্নের যুব দলের বিরুদ্ধেও খেলার সুযোগ পাবেন শুভরা। সব ঠিক থাকলে বায়ার্নের যুব দলেও সুযোগ পেয়ে যেতে পারেন তিনি। এরপর সে সুযোগ পাবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্ব একাদশ বনাম অনূর্ধ্ব-১৯ বায়ার্ন মিউনিখের ম্যাচে খেলার। সেখানো ভালো খেলতে পারলেই আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না হাওড়া শুভকে। 

&

 

বর্তমানে দিল্লির সুদেবা এফসির অ্যাকাডেমিতে রয়েছেন শুভ পাল। ছেলের এই সাফল্যে খুসি পরিবারের সদস্যরা। বাবা সামান্য গেঞ্জি কারাখারন শ্রমিক হলেও, ছেলের দৌলতে তিনিও হয়ে উঠেছে সেলিব্রেটি। সালকিয়ার বাড়িতে এখন দিনভর মিডিয়ার আনাগোনা। শুভ না থাকলেও, তার পরিবারকে শুভেচ্ছা জানাতে আসছেন অনেকেই। শুভকে দেখেই অনুপ্রাণিত হবে আরও অনেক ফুটবলার। ভবিষ্যতে এরকম আরও শুভরা উঠে আসলেই বৃদ্ধি পাবে বাংলা তথা দেশের গৌরব।