MalayalamNewsableKannadaKannadaPrabhaTeluguTamilBanglaHindiMarathiMyNation
  • Facebook
  • Twitter
  • whatsapp
  • YT video
  • insta
  • এই মুহূর্তের খবর
  • ভারত
  • পশ্চিমবঙ্গ
  • বিনোদন
  • ব্যবসা
  • লাইফ স্টাইল
  • ফোটো
  • ভিডিও
  • জ্যোতিষ
  • বিশ্বের খবর
  • Home
  • India News
  • ভাইরাসের থেকেও ভয়ঙ্কর, গর্ভনিরোধক বড়ি খাইয়ে ২০জন তরুণীকে মেরেছেন এই শিক্ষক

ভাইরাসের থেকেও ভয়ঙ্কর, গর্ভনিরোধক বড়ি খাইয়ে ২০জন তরুণীকে মেরেছেন এই শিক্ষক

গোটা বিশ্ব এখন করোনাভাইরাস-এর ভয়ে কাঁপছে। এ এক অদ্ভূত যুদ্ধ। শত্রু চোখের সামনেই রয়েছে, অথচ তাকে চোখে দেখা যাচ্ছে না। আর সেটাই করোনাভাইরাস-কে আরও ভয়ানক করে তুলেছে। কিন্তু, ভাইরাস নিয়ে এত ভয় পাওয়ার কি সত্যিই কারণ আছে? কিছু কিছু মানুষ-ও তো এমন আছে, যারা ভাইরাসের থেকেও ভয়ঙ্কর। ভাইরাসের মতোই চোখের সামনে থেকেও অদৃশ্য আঘাত হানে। এরকমই একজন মানুষ (কিংবা অমানুষ), মোহন কুমার ওরফে সায়ানাইড মোহন। 

5 Min read
Author : Amartya Lahiri
| Updated : May 24 2020, 09:01 PM IST
Share this Photo Gallery
  • FB
  • TW
  • Linkdin
  • Whatsapp
  • GNFollow Us
110
২০০৩ থেকে ২০০৯, এই ছয় বছরে দক্ষিণ কর্নাটকের পাঁচ জেলার ছয় শহরে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল অন্তত কুড়ি জন তরুণীর। তাঁদের সকলের বয়স ছিল কুড়ি থেকে ত্রিশের মধ্যে। প্রতিটি দেহই বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া শৌচাগারের দরজা ভেঙে দেহগুলি উদ্ধার করতে হয়েছিল। সবার গায়ে ছিল বিয়ের সাজ, কিন্তু একটিও গয়না থাকত না।
210
২০টি ঘটনার মধ্যে এত মিল থাকায় সহজেই যে কেউ এই মৃত্যুগুলিকে কোনও সিরিয়াল কিলার-এর কাজ বলে বুঝতে পারত। কিন্তু, দশটি থানার পুলিশ এর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে ৬ বছর ধরে কেউ ঘটনাগুলিকে একসূত্রে গাঁথার কথা ভাবেনি। পুলিশ মৃত্যুগুলির কোনওটিকে 'অস্বাভাবিক মৃত্যু, কোনওটিকে 'আত্মহত্যা' বলে জানিয়েছিল। এমনকী মৃতাদের সনাক্তকরণ বা তাদের পরিবারের তল্লাশ - কিছুই করা হয়নি। ২০টি ক্ষেত্রেই ফরেনসিক টেস্টে পটাশিয়াম সায়ানাইড বিষক্রিয়ার কারণে মৃত্যু বলে জানানো হয়েছিল। এই রাসায়নিক সহজে মেলে না, তাই আত্মহত্যার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বেশ অস্বাভাবিক। এই বিষয়টিও ভাবায়নি তদন্তকারীদের।
310
এভাবেই চলছিল। সমস্যা তৈরি হল ২০০৯ সালে, উনিশতম মৃত্যুর ক্ষেত্রে। ওই বছর ১৬ জুন নিখোঁজ হন বান্তাওয়াল-এর বছর বাইশের তরুণী অনিতা বরিমার। তিনি বাঙ্গেরা সম্প্রদায়ের। তাঁর নিখোঁজ হওয়া নিয়ে খেপে ওঠে গোটা সম্প্রদায়। তাঁর পরিবার অভিযোগ করেছিল, ভিন্ন সম্প্রদায়ের এক যুবক তাঁকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়েছে। তাঁকে ফিরিয়ে আনার জন্য বাঙ্গেরা সম্প্রদায়ের প্রায় দেড়শো মানুষ বান্তাওয়াল থানা ঘেরাও করেছিলেন। এমনকী থানা জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। চাপের মুখে বান্তাওয়াল থানা থেকে প্রতিশ্রতি দেওয়া হয় এক মাসের মধ্যে অনিতা বরিমারকে খুঁজে বার করা হবে।
410
পুলিশ প্রথমে অনিতা বরিমার-এর বাড়ির ল্যান্ডলাইনের কললিস্ট পরীক্ষা করে। দেখা যায়, প্রায়শই গভীর রাতে তিনি একটি বিশেষ নম্বরে ফোন করে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতেন। খোঁজ নিয়ে দেখা যায় সেই নম্বর এক মানকু নামে এক তরুণীর এবং তিনিও নিখোঁজ। তাঁর কল লিস্ট ঘেঁটে আরেক তরুণীর নম্বর মেলে যিনি প্রায় একবছর ধরে নিখোঁজ। এইভাবে সূত্রাকারে খোঁজ পাাওয়া যায় বেশ কিছু নম্বরের, যেগুলি প্রতিটা একেকজন তরুণীর নামে যাঁরা প্রত্যেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ।
510
এই নম্বরগুলি নিয়ে বান্তাওয়াল থানার পুলিশ বিশ্লেষণ করে দেখে প্রতিটি নম্বরই কোনও না কোনও সময় মেঙ্গালুরুর দেরালাকাত্তে নামে এক গ্রাম সক্রিয় ছিল। এই অবধি পুলিশ মনে করেছিল, এটা কোনও নারী পাচার চক্র বা মধুচক্র। তাই সেই গ্রামে গিয়ে হোটেল, লজে তল্লাশি চালাচ্ছিল তারা। সেই সময়ই পুলিশের হাতে থাকা নম্বর গুলির একটি কয়েক মিনিটের জন্য সক্রিয় হয় ওই গ্রামেই। তার থেকে খোঁজ মেলে ধনুষ নামে এক কিশোরের। ধনুষ পুলিশকে জানায় ফোনটা সে পেয়েছে তার কাকা মোহন কুমার-এর কাছ থেকে।
610
এরপর পুলিশ মোহনকুমারের ফোন ট্যাপ করে দেখে সে বান্তাওয়াল-এরই আরেক তরুণীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলছে। তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়ে যান এই মোহন কুমারই হয় নারীপাচারকারী, নয়তো সিরিয়াল কিলার। এরপরের ঘটনা বেশ সরল। বান্তাওয়ালের ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করে মোহন কুমারের জন্য ফাঁদ পেতেছিল পুলিশ। আর তাতেই পা দিয়েছিল মোহনকুমার। পুলিশের দাবি, জেরায় মোহন কুমার জানিয়েছিল তার শিকারের সংখ্যা ৩২। কিন্তু, বারোটি ক্ষেত্রে পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণই জোগার করতে পারেনি।
710
খুব হিসেব করে তরুণীদের নিশানা করত মোহন। অসচ্ছল পরিবার, বিয়ে করতে মরিয়া এরাই ছিল সহজ নিশানা। প্রথমে প্রেমের অভিনয় তারপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি - শিকার পড়ত ফাঁদে। তারপর তার সঙ্গে সংসার করার আশায় বাড়ি থেকে পালাতেন তরুণীরা। তাঁদের হোটেলে নিয়ে গিয়ে সারারাত যৌনতায় মেতে থাকত সায়ানাইড মোহন। তার আগে অবশ্য জেনে নিত তাদের ঋতুচক্রের দিন। তরুণীদের মনে অবাঞ্ছিত গর্ভাবস্থার ভয় ধরানোটা তাঁর পরিকল্পমনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
810
পরদিন সকালে তরুণীদের পরনে বিয়ের সাজ থাকলেও কৌশলে গয়নাগুলো হোটেলেই রেখে দিতে বাধ্য করত সে। তারপর তাদের নিয়ে যেত বাসস্ট্যান্ডে। সেখানে গিয়ে তাদের দিত সায়ানাইডে চোবানো গর্ভনিরোধক বড়ি। নির্দেশ দিত শৌচাগারে গিয়ে সেটি খেতে। কারণ গর্ভনিরোধক বড়ি খাওয়ার পর তাঁরা অসুস্থ বোধ করতে পারেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই পটাসিয়াম সায়ানাইড সে কিনত আব্দুল সালাম নামে এক রাসায়নিকক বিক্রেতার কাছ থেকে। স্যাঁকরা হিসাবে নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন মোহন। সোনার গয়না পালিশ করার জন্য এই রাসায়নিক লাগে। তরুণীরা শৌচাগারে ঢুকে গেলেই, তাঁদের মৃত্যু নিশ্চিত জেনে হোটেল থেকে গয়না ও অন্য মূল্যবান জিনিস নিয়ে পালাত মোহন কুমার।
910
তাকে দেখে বোঝার উপায় নেই সে এরকম ঠান্ডা মাথার খুনি। করোনাভাইরাসের মতোই সামনে থেকেও অদৃশ্য। সযত্নে আঁচড়ানো চুল, বুকপকেটে কলম আর নোটবুক - অনেকেই বলেছেন এজলাসে তাঁকে দেখে অধ্যাপক বলে মনে হয়। বিচারক ও আইনজীবীদের কথার নোট নেয় সে। বস্তুত, সে মেঙ্গালুরুর এক গ্রামের প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক ছিল। সেই স্কুলের ছাত্রী মেরিই ছিলেন মোহনের প্রথম স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ডিভোর্সের পর মঞ্জুলা নামে আরেকজনকে বিয়ে করেছিল মোহন। দুই ছেলের জন্মের পর মঞ্জুলার সঙ্গেও ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর বিয়ে করেন শ্রীদেবী নামে আরেক মহিলাকে। তাদেরও এক ছেলে ও এক মেয়ে হয়েছিল। কিন্তু, মোহন-কে জেলে দেখতে গিয়েই শ্রীদেবী প্রেমে পড়ে মোহন-এর এক সহবন্দির সঙ্গে। আপাতত সে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তার সঙ্গেই নতুন করে সংসার বেঁধেছেন মোহনের তৃতীয় স্ত্রী।
1010
পাঁচটি মামলায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড এবং চারটি ঘটনায় সে যাবজ্জীবন কারাবাসে দণ্ডিত হয়েছে। বাকিগুলির মামলা এখনও চলছে। পাঁচটি মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে দুটি ক্ষেত্রে সাজা কমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। তবে এই ভয়ানক সিরিয়াল কিলার-এর কোনও অনুতাপ নেই। এখনও স্মিত হেসে সে দাবি করে সে নির্দোষ। তাঁর দাবি, তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই ২০ জন তরুণী। প্রত্যেকের মৃত্যুর পরই প্রাক্তন 'প্রেমিকা'দের জন্য তাঁর খুব দুঃখও হত। কিন্তু দিন কয়েক পর আবার নতুন কোনও 'প্রেমিকা' পেয়ে গেলে সব ভুলে যেতেন। আর প্রেমিকাদের বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রত্যাখ্যানের কারণ? সায়ানাইড মোহনের দাবি, দ্বিতীয় আর তৃতীয় স্ত্রীকে সামলাতে গিয়ে সে বিয়ের ইচ্ছে হারিয়ে ফেলেছিল। সব সিরিয়াল কিলারই তাদের শিকারদের কিছু জিনিস ট্রফি হিসাবে রেখে দেয়। মোহলের কাছ থেকে মিলেছিল একটা ডায়েরি, যাতে লেখা ছিল নিহত তরুণীদের নাম-ঠিকানা। পরে এই ডায়েরিই পুলিশের অন্যতম সাক্ষ্যপ্রমাণ হয়ে ওঠে।

About the Author

AL
Amartya Lahiri

Latest Videos
Recommended Stories
Recommended image1
গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ নিয়ে আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ! ভারতের জন্য খুলতে চলেছে বিশাল বাজার
Recommended image2
২ ঘণ্টা ধরে ট্রেনের টয়লেট লক করে কী করছিল এই ছেলে ও মেয়েটি! দরজা খুলতেই... দেখুন ভিডিও
Recommended image3
কয়েক বছরের পুরোনো গ্রাহকদের কড়কড়ে ২ লক্ষ টাকা দেবে এসবিআই! কীভাবে পাবেন, জানেন?
Recommended image4
8th pay Commission: বার্ষিক ৫% বেতন বৃদ্ধির দাবি, ৫৪,০০০ টাকা পর্যন্ত ন্যূনতম বেতনের প্রস্তাব! সরকারের কী সিদ্ধন্ত
Recommended image5
অপারেশন সিঁদুর থেকে শিক্ষা, মহাকাশে ৫০টিরও বেশি স্পাই স্যাটেলাইট পাঠাবে ভারত
Asianet
Follow us on
  • Facebook
  • Twitter
  • whatsapp
  • YT video
  • insta
  • Download on Android
  • Download on IOS
  • About Website
  • Terms of Use
  • Privacy Policy
  • CSAM Policy
  • Complaint Redressal - Website
  • Compliance Report Digital
  • Investors
© Copyright 2025 Asianxt Digital Technologies Private Limited (Formerly known as Asianet News Media & Entertainment Private Limited) | All Rights Reserved