সে দিল্লির নয়, হায়দরাবাদের বিরাট - বিরাট চন্দ্র। বয়স মাত্র ৭। কিন্তু, অল্প বয়সটা তার কাছে কোনও বাধাই হয়নি। এই বয়সেই সে আরোহন জয় করেছে আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট কিলিমঞ্জারো। এই কৃতিত্ব অর্জন করার বিষয়ে সম্ভবত সে-ই সর্বকনিষ্ঠ। বিরাট জানিয়েছে, অত উঁচুতে উঠতে তার ভয় করেছিল ঠিকই, কিন্তু একেবারে শিখরে ওঠাাই ছিল একমাত্র লক্ষ্য। তাই ভয় কেটেও গিয়েছিল।

গত ৬ মার্চ বিরাট তার কোচ ভরত-কে নিয়ে কিলিমঞ্জারো জয় করেছে। সংবাদসংস্থা এএনআই-কে ভরত জানিয়েছেন, দীর্ঘ এক মাসের কঠিন প্রশিক্ষণের পর তিনি বিরাটকে কিলিমঞ্জারো আরোহণে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কারণ ৭ বছরের এই শিশুটির মধ্যে পর্বতারোহন নিয়ে আবেগ আছে। ট্রেনিং যতই কঠোর হোক না কেন, তা নিয়ে সে সবসময় উচ্ছ্বসিত থাকে। অনেকেই ট্রেনিং চলার সময় মাঝপথে ছেড়ে দেয়। কিন্তু, বিরাট একেবারে সেই প্রবণতার বিপরীত। দৌড়াদৌড়ি, মক ক্লাইম্বিং - পর্বতারোহনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণে সে কখনও ফাঁকি দেয় না।

৫ মার্চ যাত্রা শুরুর আগে তাঁরা একেবারে একশোভাগ প্রস্তুত ছিলেন। কারণ, ৭ বছরের এক শিশুকে নিয়ে কিলিমঞ্জারোর মতো পবর্তশৃঙ্গে আরোহণ করা সবসময়ই ঝুঁকির। বিরাট যদি অস্বস্তি বোধ করে তবে ততক্ষণাৎ নেমে আসা হবে, এটাই ঠিক করেছিলেন ভরত। অবশ্য তাঁরা একবারে পুরোটা চড়েননি। মাঝে কিছুটা সময় নিয়ে ঘুমিয়ে, বিশ্রাম নিয়ে আবার উঠেছিলেন। ৬ মার্চ তাঁরা কিলিমঞ্জারোর উহুরু শিখরে পৌঁছান। গেঁথে দেন ভারতের তেরঙ্গা পতাকা।

কিন্তু, যে বয়সে আর ৫ জন শিশু বিরাট কোহলি হতে চায়, সেখানে এই ৭ বছরের বিরাটের মাথায় পাহাড় চড়ার ভুত চাপল কোথা থেকে? তার মা জানিয়েছেন, একবার বিরাটের তুতোদাদারা উত্তরাখণ্ডের এক জায়গায় ট্রেকিং করতে গিয়ে বিরাটকে ভিডিও কল করেছিল। সেই ভিডিও কলেই পাহাড় দেখে মুগ্ধ হয়েছিল সে। বিরাট বলেছে, দাদাদের কাছে পর্বতারোহনের অভিজ্ঞতা শুনে শুনে তার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। বাবা-মা'কে সেই কথা বলতেই তাঁরা প্রশিক্ষক 'ভরত স্যার'এর কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। তারপর বাকিটা ইতিহাস।