প্রবীণ অভিনেতা ঋষি কাপুর ৬৭ বছর বয়সে হার মানলেন ক্যান্সার যুদ্ধে। কোলন সংক্রমণের কারণে ইরফান খানকে হারানোর শোকের ছায়ার মধ্যেই আবারও নক্ষত্র পতন হল ভারতীয় সিনেমা জগতে। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।  চিকিৎসকরা সন্দেহ করেছিলেন যে লিউকোমিয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। এই পরেই সব শেষ হয়ে যায়। 

আরও পড়ুন- বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন ইরফান, কতটা আগ্রাসী এই নিউরোএন্ডোক্রাইন টিউমার বা ক্যানসার নেট

২০১৮ সালে বোন ম্যারো ক্যান্সারে আক্রান্ত হন প্রবাদ প্রতিম এই অভিনেতা। চিকিত্সার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিউ ইয়র্কে ছিলেন। কী এই বোন ম্যারো ক্যান্সার? হাড়ের ভিতরে থাকে অস্থিমজ্জা। একেই বলে বোন ম্যারো। বোন ক্যান্সার হল ম্যালিগন্যান্ট টিউমার যা স্বাভাবিক বোন টিস্যুগুলিকে নষ্ট করে দেয়। হাড়ের মধ্যে হয় এই ব্যাধি। সাধারণত শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে বোন ম্যারো ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি দেখা যায়। তবে কী কারণে বোন ক্যান্সার হয়, তা এখনও নির্দিষ্ট করে কিছু জানা যায়নি।

আরও পড়ুন- রীতিমতো গানপয়েন্টে তাক হয়ে যাওয়া যাকে বলে, এভাবেই ইরফানের প্রাণ কাড়ল ক্যানসার নেট

বোন ম্যারো ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ-

হাড়ের ভেতর অসহ্য যন্ত্রণা, হাঁটতে-চলতে, নড়চড়ায় অসুবিধা হওয়া, দ্রুত হারে  ওজন কমে যাওয়া, সহজেই হাড় ভেঙে যাওয়া, হঠাৎ করে কোনও জায়গা পুঁজ জমে যাওয়ার মত ফুলে ওঠা,  ঘন ঘন জ্বর, অ্যানিমিয়ায় ভোগা ও মানসিক অবসাদ বা ফ্যাটিগোর মত সমস্যা দেখা দেয়।

শরীরে এই মারণব্যাধির প্রভাব-

নিউক্যাসেলের ক্যান্সার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক গ্রাহাম জ্যাকসন এই রোগের বিষয়ে জানিয়েছেন, শরীরের বিভিন্ন অংশ যেমন, মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড, পাঁজরে মায়লোমা প্লাজমা কোষের ক্যান্সার প্রভাবিত করে। এই রোগে আক্রান্ত হলে বর্তমানে চিকিৎসকরা সাধারণত কেমোথেরাপি এবং স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন। বোন ম্যারো ক্যান্সারে আক্রান্ত কম বয়সের রোগীর ক্ষেত্রে ওষুধের কার্যকারীতা অনেক বেশি। বরং বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব কিছুটা দেরিতে হয়।

বোন ম্যারো ক্যান্সারের প্রকারভেদ-

লিম্ফোমা- এই রোগ লিম্ফোসাইটে দেখা যায়। যা শ্বেত রক্ত ​কণিকায় লিম্ফোমা এই কোষগুলিকে সংক্রমণ বা রক্তপাত বন্ধ করতে বাধা দেয়।

একাধিক মেলোমা- এই ধরণের বোন ম্যারো ক্যান্সারের মধ্যে রক্তরস কোষ প্রভাবিত হয়। ম্যালিগ্যান্টিক প্লাজমা কোষের বৃদ্ধির ফলে হাড়ের দুর্বলতা বাড়তে থাকে।

লিউকেমিয়া- লিউকেমিয়া কেবলমাত্র শ্বেত রক্ত ​​কোষে সীমাবদ্ধ নয় এবং এটি লোহিত রক্তের কোষকেও প্রভাবিত করতে পারে।