আলুর সম্বন্ধে ভয় বা ভুল ধারণা দূর করার আগে জেনে নিন এর পুষ্টিগুণ। আলু একটি সুষম ও পুষ্টিকর খাবার। ভাতের মতো শর্করা আছে তেমনি সবজির মতো ফাইবার বা তন্তু, খনিজ লবণ, ভিটামিন ও উদ্ভিজ্জ্জ প্রোটিন আছে। আলুর মধ্যে ভাতের তুলনায় শর্করা কম থাকলেও অন্যান্য উপাদান বেশি আছে। প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ বেশি থাকায় এটি একটি সুষম খাবার হিসেবে পরিচিত। উচ্চ পুষ্টিমান এবং সহজে ফলানো ও সংরক্ষণ করা যায় বলে এটি বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ব্যবহৃত সবজিগুলোর মধ্যে অন্যতম। 

প্রতি ১০০ গ্রাম আলুতে 

শর্করা আছে ১৯ গ্রাম, 
ভিটামিন ০.০২ গ্রাম
ফাইবার ২.২ গ্রাম
খনিজ লবণ ০.৫২ গ্রাম
পটাশিয়াম লবণ ০.৪২ গ্রাম
উদ্ভিদ প্রোটিন ২ গ্রাম

অপরদিকে প্রতি ১০০ গ্রাম চালে 

৮০ গ্রাম শর্করা
ভিটামিন আছে মাত্র ০.০০২ গ্রাম
ফাইবার ১.৩ গ্রাম
খনিজ লবণ ০.২৮ গ্রাম
উদ্ভিজ প্রোটিন ৭.১৩ গ্রাম


তাই পুষ্টিবিদদের মতে, আলুতে থাকা কার্বোহাইড্রেট বা শ্বেতসার সরল বলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। ১০০ গ্রাম আলুতে রয়েছে প্রচুর ক্যালোরি। আলুর চিপস্ বা ফ্রেঞ্চফ্রাই এর সঙ্গে আলুর তুলনা করলে হবে না। কারণ সেক্ষেত্রে আলুর সঙ্গে থাকে বাড়তি তেল। উল্টে আলুর এই ধরনের খাবারে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তবে সেদ্ধ বা সবজি রান্নার সময় এর পুষ্টিগুণ প্রায় একই থাকে বললেই চলে। 

পুষ্টিবিদদের মতে তাই  ডায়েট থেকে আলু বাদ দেওয়াটা মোটেই যুক্তিসঙ্গত বিষয় নয়। আলু রোগ প্রতিরোধর ক্ষমতা বাড়ায়। আলুতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফাইবার তাই খাবার হজমেও সাহায্য করে। কিডনি ভালো রাখে। সেদ্ধ আলু মানেই কার্বোহাইড্রেট। এছাড়াও আলুতে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, সি, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ফসফরাস ইত্যাদি। যা শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই ডায়েট থেকে বাদ না দিয়ে পাতে অবশ্যই রাখুন আলু। তবে ব্লাড সুগার-এর মত সমস্যা থাকলে তা পাত থেকে দূরে রাখুন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, ভালো খান, সুস্থ থাকুন।