অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত-কে তাঁর নিজের বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। অভিনেতার মৃত্যুর কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের মাধ্যমে জানা গিয়েছে, যে কয়েকদিন ধরে তিনি অবসাদ ভুগছিলেন। ধোনির বায়োপিকে সুশান্তের সঙ্গে কাজ করেছিলেন অলোক পান্ডে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন- "সুশান্ত খুবই শান্ত প্রকৃতির, তিনি খুব আবেগপ্রবণ।" সম্ভবত তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন, সেই মত চিকিৎসাও চলছিল তাঁর। তবে কেন বার বার জনপ্রিয় এই তারকাদের অবসাদের শিকার হতে দেখা যায়। কেন বার বার অবসাদ ভুগে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তাঁরা! কেন এত সহজেই অবসাদর শিকার হয়ে নিজের জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন এই তারকারা।

এই বিষয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মূলতঃ তীব্র প্রতিযোগীতা ও সম্পর্ক জনিত সমস্যা এবং একাকীত্ববোধ সেলিব্রিটিদের আত্মহত্যার মূল কারণ। আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের তুলনায় এই তারকাদের লাইফস্টাইল সম্পূর্ণ ভাবে আলাদা। সব সময় তাঁদের কাজের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। আর পাঁচটা জীবিকার থেকে এই প্রফেশনে মানসিক চাপ থাকে যথেষ্ট বেশি। তারকাদের মানসিক চাপ যতই বেশি থাকুক না কেন প্রকাশ্যে তার বহিঃপ্রকাশ থাকে একেবারেই উল্টো। সব সময় হাসি খুশি ভাবেই তাদের ক্যামেরার সামনে বা পাবলিক প্লেসে ধরা দিতে হয়। আর তা না হলেই রটতে থাকে নানান রটনা। এছাড়াও রূপোলি জগতে কাজ করা এই মানুষেরা খোলামেলা ভাবে নিজেদের মনের সমস্যার কথা কাউকে খুলে বলতে পারেন না, এরা গুটিয়ে রাখেন নিজেদেরকে। সব সময় এরা তীব্র একাকিত্বে ভোগেন, ফলে এদের মানসিক চাপ দিনে দিনে ক্রমাগত বাড়তে থাকে।

ফ্লিম সেলিব্রিটিদের জীবন যাত্রা এতটাই ভিন্ন যে এঁদের খুব সহজেই একটি সম্পর্ক থেকে অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা থাকে। এঁদের জীবনে বিভিন্ন রকম সম্পর্কজনিত সমস্যাও দেখা যায়। এটাও অবসাদের অন্যতম কারণ। এদের বিভিন্ন জায়গায় নানান প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। সেই নিয়ে মিডিয়া জুড়ে চলতে থাকে আলোচনা। ফলে আপাতদৃষ্টিতে তাদের জীবন রঙিন মনে হলেও এদের জীবনের প্রতি পদে থাকে প্রবল মানসিক চাপ। যা এদের সম্পর্ক থেকে শুরু করে কাজের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। আর যাঁরা এই চাপ কাটিয়ে উঠতে পারেন, তারা সুস্থ জীবন কাটান, আর বাকিরা এই সুশান্ত সিং রাজপুতের মত আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।