বিশ্বনাথ দাস, হাওড়া: আমফানের ত্রাণ বণ্টনে 'দুর্নীতি'র প্রতিবাদ করেই কি বিপদে পড়লেন? দলের পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে এবার 'হামলা' চালালেন তৃণমূল বিধায়কের অনুগামীরা! সুবিচারের আশায় শাসকদলের জেলা নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন আক্রান্ত প্রধান। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হাওড়ার পাঁচলায়। 

আরও পড়ুন: করোনা আবহে নয়া বিতর্ক, কো-অর্ডিনেটরের পদ থেকে ইস্তফা দিতে চান তৃণমূল কাউন্সিলররা

ঘুর্ণিঝড় আমফানে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন, তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্য়বস্থা করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু এলাকায় সেই ক্ষতিপূরণের কাদের দেওয়া হবে? তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত প্রধানদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের সর্বত্রই। হাওড়ায় পাঁচলা পঞ্চায়েত এলাকায় কিন্তু তৃণমূলের প্রধান মুজিবর রহমান নিজেই দুর্নীতির অভিযোগ সরব হয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ক্ষতিপূরণ প্রাপকদের তালিকায় আশি শতাংশ নামই ভুয়ো। এই মর্মে চিঠিও দিয়েছিলেন জেলাশাসককে। 

আরও পড়ুন: প্রধান শিক্ষকের তুঘলকি সিদ্ধান্ত, করোনার মধ্য়ে স্কুল খুলে ক্লাস ঘাটালে

বুধবার রাতে মুজিবর যখন মসজিদে নমাজ পড়াছিলেন, তখন তাঁর বাড়িতে দুষ্কৃতীরা চড়াও হয় বলে অভিযোগ। নির্বিচারে চলে ভাঙচুর, লুট করা হয় সোনা-সহ বিভিন্ন সামগ্রীও। তৃণমূলের হাওড়ার জেলা সভাপতি লক্ষ্মীরতন শুক্লা ও কো-অর্ডিনেটর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন আক্রান্ত প্রধান।  অভিযোগ, পাঁচলা পঞ্চায়েতের প্রধান পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য মুজিবর রহমানকে নানাভাবে চাপ দিচ্ছেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক গুলশন মল্লিক। ভয়ে প্রধান নিজেই দু'বছর ঘরছাড়া।  আক্রান্ত পঞ্চায়েত প্রধান মুজিবর রহমানের দাবি, ১৫ অগাস্ট বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। সেই খবর পাওয়ার অনুগামীদের নিয়ে বৈঠক করে খুনের পরিকল্পনা করেন বিধায়ক। বুধবার রাতে তাঁর অনুগামীরাই পরিকল্পনামাফিক বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।