সন্দীপ মজুমদার, হাওড়া: দিন তিনেক আগে ছেলে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে । মা-ও সংক্রমিত হননি তো? স্রেফ সন্দেহে বশে মহিলার দেহ ছুঁতে রাজি হলেন না স্থানীয় বাসিন্দারা, এমনকী চিকিৎসকরাও! আট ঘণ্টার খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকার পর দেহটি তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার বালিতে। 

আরও পড়ুন: 'করোনার প্রতিষেধক তুলসীপাতা', নয়া নিদানে এবার বিতর্কে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

মৃতার নাম রাজকুমারী জৈন। বালির বীরেশ্বর চ্যাটার্জি স্ট্রিটের এক আবাসনের বাসিন্দা ছিলেন বছর পঞ্চান্নের ওই মহিলা। সোমবার ভোরে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন রাজকুমারী। অ্যাম্বুল্যান্সে চাপিয়ে যখন হাসপাতালে আনা হয়, ততক্ষণে সবশেষ। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগে মারা গিয়েছেন তিনি। দেহ নিয়ে ফের আবাসনে ফিরে আসেন পরিবারে লোকেরা। স্বামী বিনোদ জৈনের দাবি, এলাকার বেশ কয়েকজন চিকিৎসককে স্ত্রীর ডেথ সার্টিফিকেট লিখে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন তিনি। কিন্তু করোনা সন্দেহে দেহ পরীক্ষা না করে ডেথ সার্টিফিকেট দিতে রাজি হননি কেউই। এদিকে সংক্রমণের আশঙ্কায় দেহ আবাসনের ভিতরে ঢোকানোর যায়নি। কারণ, অন্য় আবাসিকরা আপত্তি করেন। তখন মুষলধারায় বৃষ্টি পড়ছে। প্রায় আট ঘণ্টা দেহটি রাস্তায় খোলা আকাশের নিচেই পড়ে থাকে! ধারে কাছেও ঘেঁষেননি কেউ। শেষপর্যন্ত অবশ্য স্থানীয় বাসিন্দারা খবর দেন থানায়। পুলিশ এসে মৃতদেহটি তুলে নিয়ে চলে যায়। 

আরও পড়ুন: ব্লাড ক্যানসার-এর উপর করোনা-র ঘা, সবাইকে হারিয়ে জয়ী হল পুরুলিয়ার পুঁচকে

পরিবারের লোকেদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই শ্বাসকষ্ট ভুগছিলেন রাজকুমারী। সোমবার ভোরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য যখন সিঁড়ি দিয়ে নামানো হচ্ছিল, তখন তাঁর শারীরিক অবস্থায় আরও অবনতি হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে ওই মহিলার মারা যান। কিন্তু সেসব কথা শুনতে রাজি হননি আবাসনের অন্য বাসিন্দা ও স্থানীয় এক চিকিৎসক। কেন? স্থানীয় সূত্রে খবর, গত শুক্রবার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে রাজকুমারী জৈন-এর ছেলের। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি তিনি। আর তাতেই ঘটেএই কাণ্ড। প্রশাসন সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরে দেহটি দাহ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। করোনা সতর্কতায় সোমবার বালির ওই আবাসনটিকে জীবাণুমুক্ত করা হবে।