প্রতিদিনই দেশে বেড়ে চলেছে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ২২৯৩ জন। যা এখনও পর্যন্ত এদেশে আক্রান্তের সংখ্যায় সর্বোচ্চ।  এর ফলে ভারতে একলাফে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৭ হাজার ৩৩৬ জন। 

 

 

দেশে আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৭১ জনের। ফলে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২১৮ জন। তবে এসবের মধ্যেও আশার আলো দেখিয়েছে সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যা। ভারতে এখনও পর্যন্ত করোনাকে জয় করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন ৯৯৫০ জন। যার ফলে বর্তমানে দেশে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ২৬,১৬৭।

এর মধ্যেই রাজধানী দিল্লিতে সিআরপিএফ ব্যাটেলিয়ানে করোনা সংক্রমণ নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। শনিবার ৬৮ জন জওয়ানের করোনা টেস্টের ফল পজিটিভ এসেছে। ফলে পূর্ব দিল্লির সিআরপিএফ ক্যাম্পে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২। এখনও ১০০ জনের করোনা পরীক্ষার ফল আসা বাকি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাঁদেরও সংক্রমণ থেকে থাকতে পারে।

গোটা দেশে এখনও পর্যন্ত সিআরপিএফের ১২৭ জন জওয়ান করোনা সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন জওয়ান সুস্থ হয়েছেন বলে খবর। তবে আরেক জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। বাহিনীর মধ্যে এভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বিগ্ন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ইতমধ্যে মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সিআরপিএফ প্রধানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন সেনার মধ্যে এই সংক্রমণকে আটকে রাখা গেল না।

আক্রান্তর জওয়ানরা  আধাসামরিক বাহিনীর ৩১ ব্যাটেলিয়ানের অংশ। দিল্লির ময়ূর বিহারের ফেস ৩ তে রয়েছে এই বাহিনীর ক্যাম্প। করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় দিন কয়েক আগেই একেবারে সিল করে দেওয়া হয়েছিল বাহিনীর ক্যাম্পটি। কিন্তু সংক্রমণ আটকানো যায়নি। ইতিমধ্যে ব্যাটেলিয়ানের এক ৫৫ বছরের জওয়ান করোনা আক্রান্ত হয়ে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে মারা গিয়েছেন।আশঙ্কা করা হচ্ছে, এক নার্সিং সহযোগীর থেকে জওয়ানদের মধ্যে করোনা ছড়িয়ে পড়ে।

রেড জোনের সংখ্যা নিয়ে বিরোধ, সংশোধিত তালিকা দাবি করে কেন্দ্রকে চিঠি বাংলার স্বাস্থ্যসচিবের

পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেড়াতে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন, প্রধানমন্ত্রীকে কুর্ণিশ সাংসদের

করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যাবে রেমডেসিভির, অনুমোদন দিয়ে দিল মার্কিন প্রশাসন

সিআরপিএফের ওই সদস্য করোনার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ লড়াইয়ে শামিল ছিলেন। নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে তিনি কাজ করছিলেন তিনি। গত ১৭ এপ্রিল তাঁর দেহে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। ২১ এপ্রিল পরীক্ষায় তাঁর করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। তাঁকে ভর্তি করা হয় রাজীব গাঁধী হাসপাতালে। এর পর একে একে ওই ব্যাটালিয়নের সদস্যরা করোনায় আক্রান্ত হতে থাকেন। ওই ব্যাটালিয়নের ৪৫ জন জওয়ানের দেহে করোনার অস্তিত্ব ধরা পড়তেই সেখানকার এক হাজার জনকে কোয়রান্টিনে পাঠানো হয়। এই মুহূর্তে এক ধাক্কায় সেই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২।

সিআরপিএফের এই ব্যাটেলিয়ানে রয়েছে এক হাজারের বেশি জওয়ান। একই ব্যাটেলিয়ান থেকে ক্রমাগত সংক্রমণের খবর আসতে থাকায় চিন্তা বেড়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। জানা যাচ্ছে, সিআরপিএফ তাঁর সমস্ত শাখাকে নির্দেশ দিয়েছে যে গাড়িতে তাঁরা কাজে যাচ্ছেন, সেই গাড়িতে একটি স্যানিটাইজার মেশিন রাখতে। যাতে ডিউটির সময় সেটি ব্যবহার করে জওয়ানরা নিজেদের সংক্রমণ থেকে মুক্ত রাখতে পারেন।